Sunday, November 08, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গাজীপুরে ফের শ্রমিক বিক্ষোভ, সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে ছত্রভঙ্গ

শিল্প পুলিশ জানায়, শ্রমিক বিক্ষোভের পর এলাকার ৭ কারখানা আজকের জন্য ছুটি ঘোষণা করে

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

গাজীপুর নগরীর কোনাবাড়িতে বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে ফের বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। পরে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে ও লাঠিপেটা করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেন।

রবিবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে গাজীপুরের কোনাবাড়ির থানাধীন জরুণ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে অর্ধশতাধিক শ্রমিক হাতে লাঠি নিয়ে কাশিমপুর থেকে কোনাবাড়ির জরুনের দিকে আসেন। এ সময় তারা আশপাশের কারখানারগুলোতে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকেন। ওইসব কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল।

স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের কারখানার ভেতরে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা তাদের ধাওয়া দেন। খবর পেয়ে বিজিবিও ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে পুলিশ ও বিজিবি’র সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে ও লাঠি পেটা করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেন।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, “সকাল থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত স্বাভাবিক ভাবেই চলছিল গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের কার্যক্রম। বেলা ৩টার দিকে ওই একই দাবি জানিয়ে মণ্ডল গ্রুপের বেশ কয়েকজন শ্রমিক জরুন মোড় আসছিল। তারা ৬ থেকে ৭টি কারখানায় ঢিল ছুঁড়লে শিল্প পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়লে তারা সরে যায়। এ সময় ওই এলাকার ৭টি কারখানা আজকের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়।”

অপরদিকে, একইদিন সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশের পর কাজ বন্ধ করে বসে থাকে। বেতন বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাসহ ১৪ দফা দাবিতে কালিয়াকৈরের দুটি জুতার কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করে বিক্ষোভ করেছেন।

একপর্যায়ে তারা কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেলা ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। ছুটির পর শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে চলে যান। এতে শিল্পাঞ্চলে নতুন করে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এছাড়া, ভান্নারা-মৌচাক এলাকায় অবস্থিত একই গ্রুপের জেনিথ ফুটওয়্যার লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরাও কাজ বন্ধ করে কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের একাংশ কারখানা থেকে বের হয়ে ভান্নারা-মৌচাক বাজারে জড়ো হন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কিছু কর্মকর্তার আচরণ সন্তোষজনক নয়। এসব সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদনকাজ বন্ধ রাখার কথাও জানিয়েছেন তারা। এছাড়া এপেক্স ফুটওয়্যার কর্তৃপক্ষের কাছে তারা ১৪ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) আমজাদ হোসেন বলেন, “এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করেন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি দিলে শ্রমিকরা চলে যায়। চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী কারখানার মজুরি কাঠামোর সঙ্গে বিজিএমইএর আওতাধীন পোশাক কারখানার মজুরি কাঠামোর কোনো মিল নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে কারখানা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”

   

About

Popular Links

x