Wednesday, July 22, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সামনের বছরেই আরও আধুনিক হচ্ছে কেরু!

২০২০-২১ অর্থবছরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি হ্যান্ড-স্যানিটাইজার, ডিস্টিলারি পণ্য এবং জৈব সার বিক্রি করে ১৭০.৮৩ কোটি টাকা আয় করেছে এবং সরকারি কোষাগারে ৭৩.৮৮ কোটি টাকা দিয়েছে

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ০৬:৫৭ পিএম

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটি (একনেক) ২০১২ সালের ২০ এপ্রিল সরকারি অর্থায়নে কেরু অ্যান্ড কোং (বাংলাদেশ) লিমিটেডের উৎপাদন খরচ কমাতে এবং উৎপাদন বাড়াতে ৪৬.৫৭ কোটি টাকার একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুমোদন দেয়।

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অবস্থিত কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে এর ভারসাম্য, আধুনিকীকরণ এবং প্রতিস্থাপন (বিএমআর) আগামী বছর শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রবিবার ঢাকা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানিয়েছেন বিএসএফআইসি কর্মকর্তারা।

২০১২ সালে অনুমোদনের পর ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর এই প্রকল্পের ব্যয় সংশোধন করে ১০২.২১ কোটি টাকায় উন্নীত করে একনেক। অর্থাৎ ব্যয় বাড়ে প্রায় ১২০%।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের সময়কাল ছিল ২০১২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। পরে, বিএসএফআইসি ২০১৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) সঙ্গে “টার্ন-কি ভিত্তিতে” প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য একটি চুক্তি করে।

আধুনিকীকরণ করা হলে উৎপাদন বাড়বে কেরুর। ফাইল ছবি/ঢাকা ট্রিবিউন

পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ দুইবার বাড়ানো হয়। একনেক এর মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্র-ফরমা/প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করে এবং ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর প্রকল্পের স্থানে একটি “মিল হাউস” স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।

তখন প্রকল্পের সময়কাল বাড়িয়ে ২০১২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সংশোধন করা হয়।

মূল পরিকল্পনা ছিল ৮৩ বছর বয়সী এই “চিনিকলটি”কে আধুনিকীকরণ করা এবং এর বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা ধরে রাখা।

জানা গেছে, ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মিল পরিকাঠামোর ৫১% সম্পন্ন হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৪৭.১৪ কোটি টাকা অর্থাৎ বরাদ্দের ৪৬.১২%।

প্রকল্পের সময়কাল কয়েকবার পেছালেও সূত্র জানায়, করপোরেশনের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আরিফুর রহমান চলতি বছরেই কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সূত্র আরও জানায়, বিএসএফআইসি’র একটি প্রকৌশল প্রতিনিধি দল ২০২০ সালের ৩০ আগস্ট, ১৪ সেপ্টেম্বর এবং ১৩ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন করে এবং বিএমটিএফকে প্ল্যান্টের কিছু নকশা পরিবর্তনের পরামর্শ দেয়।

কেরু অ্যান্ড কোং-এর উৎপাদিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ/বিসিবি’র সৌজন্যে

এরপর বিএমটিএফ-এর একটি প্রতিনিধিদল ২০২১ সালের ৬ জুন বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান মো. আরিফুর রহমানের সঙ্গে একটি বৈঠক করে। ২০২২ সালের ২০ জানুয়ারির মধ্যে তারা মিলটির কমিশনিং এবং ট্রায়াল চালানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেন।

সূত্র আরও জানিয়েছে, কেরুর আধুনিকায়নে প্রয়োজনীয় মেশিন আমদানির জন্য বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) স্বনামধন্য ভারতীয় কোম্পানি “উত্তম এনার্জি লিমিটেড”-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে।

তবে, ২০২০ সালে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের প্রকল্প সাইট পরিদর্শন করার কথা ছিল। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে তাদের সফর বিলম্বিত হয়। পরবর্তীতে, উত্তম এনার্জি লিমিটেডের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গত বছরের ৬ জানুয়ারি প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন করে।

জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি হ্যান্ড-স্যানিটাইজার, ডিস্টিলারি পণ্য এবং জৈব সার বিক্রি করে ১৭০.৮৩ কোটি টাকা আয় করেছে এবং সরকারি কোষাগারে ৭৩.৮৮ কোটি টাকা দিয়েছে।

তবে, একই বছরে মিলটি চিনি এবং অন্যান্য পণ্য বিক্রি করে ৭৬ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে।

চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে চিনি শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের মাধ্যমে চিনির বার্ষিক চাহিদার প্রায় ৫% মেটাতে সক্ষম।

এছাড়াও, বিএসএফআইসি চিনির দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে সাহায্য করে, যা বছরে ২.১ লাখ টন চিনি উৎপাদন করতে পারে।

বিএসএফআইসি ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। চিনির শিল্পায়ন টিকিয়ে রাখতে বিএসএফআইসি চিনিকলগুলোর ভারসাম্য, আধুনিকীকরণ এবং প্রতিস্থাপন (বিএমআর), পণ্য বৈচিত্র্যকরণ প্রকল্প যেমন- উপজাত ভিত্তিক সার প্ল্যান্ট এবং সহযোগী প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, চিনি এবং বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের কিছু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

কেরু অ্যান্ড কোং (বাংলাদেশ) লিমিটেড সরকারের মালিকানাধীন বাংলাদেশের একমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিস্টিলারি। এটি বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের মালিকানাধীন ১৫টি চিনিকলের মধ্যে অন্যতম। প্রতিষ্ঠানটি সরকারের জন্যও লাভজনক এবং নিয়মিত করও দেয়। কেরু মূলত দুই ধরনের মদ প্রস্তুত করে। প্রতিষ্ঠানটির ২০০টি বিতরণকারী এজেন্ট এবং ১৩টি গুদাম রয়েছে।

   

About

Popular Links

x