নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করায় সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে এই নির্বাচন কমিশনকে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী রবিবার বিকালে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হাবিুবল আউয়াল এবং চারজন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর, আনিছুর রহমান, রাশেদা সুলতানা এবং আহসান হাবীব খানকে শপথ পড়ান। এর আগের দিন শনিবার তাদের নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।
এর আগে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকে ৩০০টিরও বেশি নাম পাওয়ার পর সার্চ কমিটি এ ১০ জনকে বাছাই করে। কাজী হাবিবুল আউয়াল ছিলেন জাফরুল্লাহর অনুসন্ধান প্যানেলের অন্যতম।
তার বিষয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, “সরকারের কাছে আমার অনুরোধ তারা যেন হাবিবুল আউয়ালের হাত পা বেঁধে না রাখে। যদি তিনি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন তাহলে ভারতের বহুল আলোচিত নির্বাচন কমিশনার টিএন শেষনের মতো হওয়ার সম্ভাবনা আছে তার। তার মধ্যে সেই চারিত্রিক দৃঢ়তা আছে। প্রতিরক্ষা সচিব হিসেবে, আইন সচিব হিসেবে তারমধ্যে আমি সেই দৃঢ়তা দেখেছি। শুধু কাঠামো নয় ব্যক্তির ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে।”
তিনি বলেন, “তারপর নির্বাচন কমিশনের যে আইন আছে যে ক্ষমতা আছে সেটা প্রয়োগ করতে দিতে হবে। ইভিএমের বিষয়টি ফয়সালা করতে হবে। আইনেরও কিছু সংশোধন করতে হবে। আর সরকার যেন কমিশনকে পুরোপুরি সহায়তা করে। তাদের কোনো কাজ যদি সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যায় তাহলেও সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে। সব রাজনৈতিক দলকেও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।”
তবে তার মতে, “প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়া আর চার জন কমিশনারের নিয়োগ গতানুগতিক হয়েছে। এখানে নারী একজন কেন দুই জন হতে পারতেন। আমলা কেন অন্য পেশা থেকেও হতে পারতেন।”
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত অন্য চার নির্বাচন কমিশনার হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ বেগম রাশিদা সুলতানা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান এবং অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর ও আনিসুর রহমান।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটির কাছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও ব্যক্তির কাছ থেকে এখন পর্যন্ত ৩২৯ জনের নাম প্রস্তাব করা হয়। তবে বিএনপি, সিপিবিসহ বেশ কয়েকটি দল সার্চ কমিটিতে কোনো নাম সুপারিশ করেনি।
পরে প্যানেল মূল্যায়ন করে তালিকাটি সংক্ষিপ্ত করে প্রথমে ৫০ জন, তারপর ২০ এবং রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করার জন্য অবশেষে ১০ জনে নিয়ে আসে।



