Saturday, July 11, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে ঠাঁই মিলছে পরিবেশবান্ধব ‘সোনালী ব্যাগ’-এর!

উদ্ভাবনের ছয় বছর পরও পলিথিন ব্যাগের বিকল্প পাটের তৈরি পরিবেশবান্ধব ‘সোনালী ব্যাগ’ বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২২, ১১:২৩ পিএম

উদ্ভাবনের ছয় বছর পরও পলিথিন ব্যাগের বিকল্প পাটের তৈরি পরিবেশবান্ধব “সোনালী ব্যাগ” বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকারিতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর পণ্যটির প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ ব্যক্তি এবং উদ্ভাবকরা হতাশ। কারখানা পরিচালনার জন্য অর্থ বরাদ্দ না থাকায় প্রকল্পটি এখন মৃত্যুর অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

পাট থেকে তৈরি পলিব্যাগ বাজারজাত করার জন্য ২০১৮ সালে একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। তবে পঞ্চম বছরেও ব্যাগটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আনা সম্ভব হয়নি।

সোনালী ব্যাগের উদ্ভাবক মোবারক আহমেদ বলেন, “সোনালী ব্যাগ বাজারজাত করতে আরও ৩৫০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।”

শুধু সীমিত আকারে ব্যাগ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।

পলিব্যাগের বিকল্প সোনালী ব্যাগ বাণিজ্যিক উৎপাদনের প্রকল্প কবে বাস্তবায়িত হবে তা বলতে পারেননি বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের কর্মকর্তারা।

নির্ভরযোগ্য বিকল্পের অভাবে বাজারে এখনও রাজত্ব করছে নিষিদ্ধ পলিথিন। সবজির বাজার, মুদি দোকান, শপিংমল, চেইন শপে পলিথিনের ব্যবহার বাড়ছে। পরিবেশ ক্ষতিকর এসব পণ্য নিয়ন্ত্রণে মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় পলিথিনের ব্যবহার কমেনি।

২০০২ সালে বাংলাদেশে পলিথিন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরিবেশবাদীরা বলছেন, আইন প্রয়োগে ব্যর্থতাই বাজারে পলিথিনের আধিপত্যের প্রধান কারণ। পলিথিন নিয়ে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্ব চিন্তিত। প্রতিদিন লাখ লাখ টন পলিব্যাগ ব্যবহার করে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।


পলিথিন পোড়ালে কার্বন মনো–অক্সাইড উৎপন্ন হয়ে বাতাসকে দূষিত করে/ রয়টার্স


বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা মোবারক আহমেদ খান ২০১৬ সালে “সোনালী ব্যাগ” নামে পাটের পলিথিন ব্যাগ উদ্ভাবন করেন। এটি একটি সেলুলোজ-ভিত্তিক বায়োডিগ্রেডেবল বায়োপ্লাস্টিক, প্লাস্টিকের ব্যাগের বিকল্প। পাট থেকে সেলুলোজ সংগ্রহ করে এই ব্যাগ তৈরি করা হয়। এটি দেখতে সাধারণ পলিথিনের মতো হলেও এটি পচনশীল।

বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসার আগে “সোনালী ব্যাগ” দেশে-বিদেশে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিল। ব্যাগ বাজারজাত করার জন্য ২০১৬ সালে একটি পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। তবে ছয় বছরেও ব্যাগটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আনা সম্ভব হয়নি।

ঢাকার ডেমরায় শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন লতিফ বাওয়ানী জুটমিলে সোনালী ব্যাগ তৈরির কারখানা রয়েছে। এই ব্যাগ উৎপাদনের জন্য ২০১৯ সালের ৭ মার্চ বাংলাদেশ জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড থেকে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই টাকা দিয়ে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও কেমিকেল কেনা হয়েছে। শুধু মতিঝিলের বিজেএমসি অফিস থেকে ব্যাগ বিক্রি হয়।

এ প্রেক্ষাপটে “সোনালী আঁশের সোনার দেশ, পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্য নিয়ে রবিবার বাংলাদেশ পাট দিবস-২০২২ উদযাপিত হয়েছে।

   

About

Popular Links

x