বিশ্বকাপে দেশের জার্সি গায়ে খেলার স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন মাত্র ১৬ দিন আগে। কিন্তু সেই স্বপ্নের আবেশ কাটতে না কাটতেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণ মিডফিল্ডার জেডেন অ্যাডামস। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তার মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশটির ফুটবল অঙ্গনে।
চলমান বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে তিনটি গ্রুপ ম্যাচে মাঠে নামেন মেমেলোদি সানডাউন্সের এই মিডফিল্ডার। উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-০ গোলের পরাজয়ের ম্যাচে তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন। এরপর চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচেও প্রথম একাদশে জায়গা পান। সবশেষ ২৫ জুন দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি।
তবে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে কানাডার বিপক্ষে ১-০ গোলের হারের ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি অ্যাডামস। বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার মাত্র ১৬ দিনের মাথায় তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ফুটবল অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া।
জেডেন অ্যাডামসের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে শোক প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়ামন্ত্রী গেইটন ম্যাকেঞ্জি। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, “দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল একটি সম্ভাবনাময় তরুণ প্রতিভাকে হারিয়েছে। তার অকাল মৃত্যু পরিবার, সতীর্থ, সমর্থক এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।“
দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল খেলোয়াড় ইউনিয়নও এক বিবৃতিতে জানায়, ২০২৬ বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে জেডেন অ্যাডামস গর্ব, সাহস ও মর্যাদার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার মৃত্যু শুধু পরিবারের নয়, পুরো দেশের ফুটবল অঙ্গনের জন্যই এক বড় ক্ষতি।
স্টেলেনবোশের যুব একাডেমি থেকে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেন অ্যাডামস। সেখান থেকেই উঠে এসে ক্লাবটির ইতিহাসে প্রথম একাডেমি গ্র্যাজুয়েট হিসেবে পেশাদার চুক্তি স্বাক্ষর করেন। স্টেলেনবোশের হয়ে ১৩৯টি ম্যাচ খেলেন এবং ২০২৩ সালে কার্লিং নকআউট শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যোগ দেন মেমেলোদি সানডাউন্সে।



