Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টিপু হত্যার সঙ্গে জড়িত একাধিক খুন ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব

টিপুকে গুলির পর আসামিরা একজন আরেকজনকে মেসেজ দেয় ‘ইট ইজ ডান’

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২২, ০৩:৫৭ পিএম

রাজধানীর শাহজাহানপুরে গুলিতে নিহত মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনায় অন্যতম পরিকল্পনাকারী ওমর ফারুকসহ (৫২) চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গ্রেপ্তার ওমর ফারুক মতিঝিল দশ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

শুক্রবার (১ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর মুগদা, শাহজাহানপুর ও মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৩।

গ্রেপ্তার অন্য তিন জন হলেন ওমর ফারুক (৫২), আবু সালেহ শিকদার (৩৮), নাছির উদ্দিন (৩৮) ও মোরশেদুল আলম (৫১)। 

শনিবার দুপুরে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

র‍্যাব জানায়, টিপুকে গুলির পর আসামিরা একজন আরেকজনকে মেসেজ দেয় “ইট ইজ ডান”।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, টিপু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ২০১৩ সালে যুবলীগ নেতা মিল্কী হত্যাকাণ্ড, ২০১৬ সালে পুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী রিজভী হাসান ওরফে “বোঁচা বাবু” হত্যাকাণ্ড এবং মতিঝিল এলাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, স্কুল-কলেজের ভর্তি বাণিজ্য, বাজার নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাদের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব-সংঘাত জড়িত।


আরও পড়ুন: ‘এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যেই জাহিদুলকে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা’



র‍্যাব বলছে, ২০১৩ সালে রাজধানীর গুলশান শপার্স ওয়ার্ল্ডের সামনে মিল্কী হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। গ্রেপ্তার আসামিদের চারজনই যুবলীগ নেতা মিল্কীর অনুসারী ছিলেন। মিল্কী হত্যার সঙ্গে টিপু জড়িত ছিলেন বলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সন্দেহ করতেন। তখন মিল্কী হত্যায় যে মামলা দায়ের করা হয়েছিল সেখানে এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন টিপু। কিন্তু বিচারিক কার্যক্রমে টিপুর নাম বাদ পড়ে। যা গতকাল গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

এছাড়া, গতকাল গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা ২০১৬ সালে রিজভী হাসান ওরফে “বোঁচা বাবু” হত্যাকাণ্ডের আসামি। বাবু হত্যা মামলায় পুলিশ গতকাল গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে তিনজন ওমর ফারুক, আবু সালেহ শিকদার ও নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে। মামলাটি বর্তমানে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের রায়ের অপেক্ষায় আছে। বোঁচা বাবুর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা করেছিল তার বাবা আবুল কালাম। কিন্তু মামলার যাবতীয় খরচসহ সবকিছু দেখভাল করছিল জাহিদুল ইসলাম টিপু। আসামিরা ৫০ লাখ টাকা দিয়ে মামলার দফারফার জন্য টিপুকে প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু টিপু রাজি হননি। গতকাল গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের দাবি, টিপুর কারণেই মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে গেছে এবং বিচার দ্রুত হচ্ছে। আসামিদের আশঙ্কা ছিল, এ মামলায় তাদের কারও ফাঁসি হবে। তাই মামলার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে প্রথমে মামলার বাদী আবুল কালামকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরবর্তীতে আসামিরা ভেবে দেখলেন, বাদীর পরিবর্তে টিপুকে হত্যা করলে মামলার কার্যক্রম ব্যাহত করা যাবে।


আরও পড়ুন- ডিবি: জাহিদুলকে হত্যার জন্য পাঁচ দিন আগে ভাড়া করা হয় মাসুমকে



র‍্যাব আরও জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ভিকটিম ও হত্যার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে বিরোধ ছিল। মতিঝিল এলাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, স্কুল-কলেজের ভর্তি বাণিজ্য, বাজার নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার নিয়েও তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে আসছিল। আর এসব দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করেই টিপুকে হত্যা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আল মঈন বলেন, “তিন থেকে চার মাস আগে টিপু হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিকাশ প্রকাশ গ্রুপের অন্যতম কিলার সুমন শিকদার মুসার সঙ্গে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করে ওমর ফারুক। এর মধ্যে প্রথমে মুসাকে ৯ লাখ টাকা দেয় ওমর ফারুক। মার্চের ১২ তারিখে টাকা নিয়ে দুবাই চলে যায় মুসা।”

প্রসঙ্গত, ২৪ মার্চ রাত সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুরের আমতলা মসজিদ এলাকায় এলোপাতাড়ি গুলিতে খুন হন মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ওরফে টিপু (৫৮)। সে সময় সড়কে যানজটে আটকা পড়ে রিকশায় বসে থাকা কলেজছাত্রী সামিয়া আফরিন ওরফে প্রীতি (২২)গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন জাহিদুলকে বহন করা মাইক্রোবাসের চালকও।

এ ঘটনায় পরের দিন শুক্রবার (২৫ মার্চ) দুপুরে নিহত জাহিদুল ইসলাম টিপুর স্ত্রী ফারজানা ইসলাম ডলি বাদী হয়ে শাহজাহানপুর থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।


আরও পড়ুন: যেভাবে টিপু ও প্রীতির ওপর গুলি চালানো মাসুমকে ধরেন এসআই খোরশেদ


গত ২৭ মার্চ বগুড়া থেকে এ ঘটনার প্রধান আসামি আকাশকে (৩৪) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ঢাকার একটি আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আকাশের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কমলাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় দ্বিতীয় সন্দেহভাজন আরফানউল্লাহ দামালকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়ান্দা শাখা (ডিবি)। পরের দিন শুক্রবার তার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার একটি আদালত।

   

About

Popular Links

x