Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

২২ দিন পর বিদ্যালয়ে শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল

এ ঘটনার পেছনের ষড়যন্ত্রকারীদেরও শাস্তির দাবি করেন তিনি

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২২, ০১:২৭ পিএম

২২ দিন পর বিদ্যালয়ে ফিরেছেন মুন্সিগঞ্জের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আটকের পর জামিন পাওয়া হৃদয় মণ্ডল।

বুধবার (১৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনার তদন্ত গঠিত কমিটির সঙ্গে কথা বলতে বিদ্যালয়ে আসেন তিনি।

এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের শাস্তি চেয়ে শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মন্ডল বলেন, “এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে হোক বা আইনগতভাবে শাস্তি  দিতে হবে। তাদের যদি শাস্তি দেওয়া না হয় তাহলে বাংলাদেশের অন্য স্কুলগুলোতেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।”

এ ঘটনার পেছনের ষড়যন্ত্রকারীদেরও শাস্তির দাবি করেন তিনি।  

বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু করার প্রসঙ্গে হৃদয় চন্দ্র মন্ডল বলেন, “হেডস্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে, সপ্তাহখানেক পর থেকে ক্লাস শুরু করবো। কিন্তু আমার পরিবারের সঙ্গে গতকালও এখানে ঝামেলা হয়েছে। এভাবে চললে কীভাবে স্কুলে  ক্লাস করবো।” 

এদিকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মন্ডল মণ্ডলের ঘটনায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।বুধবার বেলা এগারোটা থেকে কাজ শুরু করেন তদন্ত কমিটির একমাত্র সদস্য সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হাই তালুকদার । 

অধ্যক্ষ আবদুল হাই তালুকদার বলেন, “গতকাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।আমি মামলার বাদী, স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র, পুলিশ আইনজীবীসহ যারা এই ঘটনা দেখেছেন ও জানেন তাদের থেকে সব কথা শুনে লিপিবদ্ধ করবো।  পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে আমাকে তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে আজ আমি সারাদিন স্কুলে বিদ্যালয়ের অবস্থান করবো এবং যতক্ষণ পারা যায় যতজন পাওয়া যায় তাদের সঙ্গে কথা বলবো।


আরও পড়ুন: হৃদয় মণ্ডলকে কেন ফাঁসিয়েছিল শিক্ষার্থীরা?


প্রসঙ্গত, গত ২০ মার্চ পঞ্চসার ইউনিয়নের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ক্লাস নিচ্ছিলেন হৃদয় মণ্ডল। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে প্রাসঙ্গিকভাবে ইসলাম ধর্ম বিষয়েও কথা বলেন।

কয়েকজন শিক্ষার্থী মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় তার বক্তব্য রেকর্ড করে। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে অসন্তোষের জেরে স্কুল ছুটির পর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত আবেদন দেয় শিক্ষার্থীরা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ হৃদয় চন্দ্র মন্ডলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষের অসন্তোষের জেরে স্কুল  ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসে। তবে শিক্ষার্থীদের একাংশ বিষয়টি সমঝোতার সমাধান না মেনে ২২ মার্চ ক্লাস বর্জন করে ওই শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে।

খবর পেয়ে মুন্সিগঞ্জ থানা ও জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়। এরপর হৃদয় চন্দ্রকে তার বাসা থেকে আটক করা হয়।এরপর দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়।

১০ এপ্রিল মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুতাহারাত আক্তার ভূঁইয়া তার জামিন মঞ্জুর করেন। ওই দিন বিকেলেই মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

   

About

Popular Links

x