গাজীপুরের কাপাসিয়ায় দুই কন্যাশিশুসহ এক মা শীতলক্ষ্যা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। এর মধ্যে এক কন্যাশিশুকে স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার করতে পেরেছেন, বাকিরা এখনও নিখোঁজ।
রবিবার (১৯ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাত সদস্যের ডুবুরিদল নিখোঁজ মা-মেয়েকে উদ্ধারের তৎপরতা শুরু করে।
নিখোঁজ মা আরিফা খাতুন (৪০) কাপাসিয়া উপজেলার বিবাদীয়া গ্রামের বাসিন্দা। দুই কন্যা মুর্শিদা (৭) এবং তাহমিনাকে (৯) নিয়ে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন। এর মধ্যে তাহমিনাকে স্থানীয় জেলেরা জীবিত উদ্ধার করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরিদলের লিডার ইদ্রিস আলী জানান, আরিফা খাতুন নামের ওই নারী তার বাড়ির অদূরে সিংহশ্রী ব্রিজ থেকে দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে লাফিয়ে পড়েন। এ সময় তাহমিনা স্থানীয় জেলেদের মাছ ধরার জালের খুঁটি ধরে ফেলে। পরে জেলেরা তাকে উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, এক সন্তানকে নিয়ে ওই মা প্রবল স্রোতে নিখোঁজ হন। জেলে এবং স্থানীয়রা তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করে। দুপুর পৌনে ৩টার দিকে খবর পেয়ে টঙ্গী থেকে সাত সদস্যের ডুবুরিদল বিকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখোঁজ মা-মেয়েকে উদ্ধারের তৎপরতা শুরু করে।
নিখোঁজ আরিফা খাতুনের প্রতিবেশী মমতাজ উদ্দিন ও আবুল হাশেম জানান, আব্দুল মালেক নামে নারায়ণগঞ্জের এক ব্যক্তির সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে হয়েছিল। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি দুই শিশুকন্যাসহ বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। স্বামীর রেখে যাওয়া সঞ্চিত টাকার লভ্যাংশ দিয়ে তাদের সংসার চলত। পারিবারিক বিষয় নিয়ে মাঝেমাঝে বাবার বাড়ির স্বজনদের সঙ্গে আরিফয়ার বাগ্বিতণ্ডা হতো। ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহে মানসিক বিপর্যস্ত হয়ে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন।



