Sunday, June 21, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘এই রাস্তা আমার ভাই, দুই ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতনিকে কেড়ে নিয়েছে’

‘এই সড়ক আমারে শেষ করে দিছে। আমার দুইটা ছেলেরে নিছে। আমার ছোট ভাইডারে নিছে। ছেলের বউ, নাতনিকে নিছে। আর না জানি কারে কারে নেয়!’

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২২, ০৫:৫১ পিএম

ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ট্রাকচাপায় জন্ম নিয়েছে এক শিশু। দুর্ঘটনায় হাত ভাঙলেও বর্তমানে সে শঙ্কামুক্ত। এ ট্রাক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে তার মা-বাবা ও বোনটিকে।

শুধু এই তিনজনই নয়, এর আগে একই মহাসড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ওই শিশুটির এক চাচা এবং দাদার ভাইও। তারা সবাই নিজেদের বাড়ির সামনের পারিবারিক কবরে পাশাপাশি সমাহিত রয়েছেন।

শনিবার (১৬ জুলাই)ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌর এলাকার দড়িরামপুরে রাস্তা পারাপারের সময় ট্রাকচাপায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে রত্না বেগম (২৬) অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ট্রাকচাপায় তার গর্ভের সন্তান বেরিয়ে আসে। তবে তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) ও আড়াই বছর বয়সী মেয়ে জান্নাত আরার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানায়, ত্রিশাল উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের রায়মনি গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর; তার স্ত্রী রত্না আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে বাড়ি থেকে বের হলে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তারা। দুর্ঘটনার সময় ট্রাকের চাপায় রত্নার গর্ভে থাকা কন্যাশিশু বেরিয়ে এলে তাকে উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক নবজাতককে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

দৈনিক প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্য প্রাণ হারানোয় নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। নিহত জাহাঙ্গীর আলমের মা সুফিয়া বেগমের কান্নায় ভারি হয়ে আসছে চারপাশের পরিবেশ। জাহাঙ্গীর আলমের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান প্রথমে বাড়িভর্তি লোকের সামনে শক্ত থাকলেও একসময় তিনিও কান্নায় ভেঙে পড়েন।

মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শনিবারের দুর্ঘটনায় তার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, পুত্রবধূ রত্না বেগম আর নাতনি সানজিদার মৃত্যু হয়। ২০০৪ সালে বাড়ির সামনে একই মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মারা যান তার ছোট ছেলে শামসুল হক। এর আগে ১৯৯৫ সালে একই মহাসড়কে দুর্ঘটনায় তার ছোট ভাই ফজলুল হকের মৃত্যু হয়। পাঁচজনই বাড়ির সামনের কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন।

কান্নারত মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এই সড়ক আমাকে শেষ করে দিয়েছে। আমার দুই ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে। আমার ছোট ভাইটাকে নিয়েছে। ছেলের বউ, নাতনিকে নিছে। আর না জানি কাকে কাকে নেবে!”

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জাহাঙ্গীর আলম ও রত্না বেগম দম্পতির ঘরে একটি ছেলে আর একটি মেয়ে আছে। জান্নাত (১০) নামে মেয়েটি পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছেলে মো. এবাদত (৮) স্কুলে যায় না।

নাতি-নাতনিদের নিয়ে অনাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমি প্রতিবন্ধী মানুষ। ছয় বছর ধরে কাজ করতে পারি না। আগে রাজমিস্ত্রির কাজ করতাম। এখন মাসে ৪৫০ টাকা সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা পাই। এ নিয়ে কীভাবে তিন নাতি-নাতনিকে মানুষ করব, সেটা ভেবে পাচ্ছি না।”

   

About

Popular Links

x