ময়মনসিংহের ত্রিশালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ট্রাকচাপায় মায়ের পেট ফেটে জন্ম নেওয়া কন্যাশিশুটি জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছে। সে এখন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিষয়টি ঢাকা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন মমেক হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান (শিশু) ডা. নজরুল ইসলাম।
ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, শিশুটি ময়মনসিংহের লাবিব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। সেখান থেকে সোমবার রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে নবজাতকের জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জানা যায়। মঙ্গলবার পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. কামরুজ্জামান বলেন, “ওই নবজাতক আমার তত্ত্বাবধানে শহরের লাবিব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। সোমবার শিশুটির জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দিলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জানার পর মেডিকেল বোর্ড গঠন করে ওই নবজাতককে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
গত শনিবার ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌর এলাকায় ট্রাকচাপায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হন। নিহতদের রত্না বেগম (২৬) নামে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী ছিলেন। ট্রাকচাপায় তার গর্ভের কন্যাসন্তান বের হয়ে আসে।
ওইদিন দুপুর আড়াইটার দিকে পৌর এলাকার দড়িরামপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় কন্যাশিশুটির জন্ম হয়। দুর্ঘটনায় শিশুটির বাবা জাহাঙ্গীর আলম (৩৫), মা রত্না বেগম এবং আড়াই বছর বয়সী বোন জান্নাত আরার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানায়, ত্রিশাল উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের রায়মনি গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর; তার স্ত্রী রত্না আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে বাড়ি থেকে বের হলে সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় ট্রাকের চাপায় রত্নার গর্ভে থাকা সন্তান বের হয়ে আসে।



