Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফাগুনের রঙ একুশে বইমেলায়

ফাগুনের রঙে মাতা হয়নি এমন মানুষও মেলাপ্রাঙ্গণে ভিড় জমিয়েছেন

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০১:০৪ পিএম

ঋতুরাজ বসন্তের আগমনের সঙ্গে যেন অমর একুশে বইমেলা নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে আসা ফাগুনের প্রথম দিন থেকেই বইমেলায় যোগ হয়েছে বাড়তি রঙ। সেই সঙ্গে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে উৎসবের আবহ এবং আনন্দও দ্বিগুণ হয়েছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বইমেলায় আগত দর্শনার্থীদের থাকে বাড়তি আনাগোনা। উৎসবমুখর পরিবেশে মেলার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাথায় ফুল নিয়ে রঙিন শাড়ি আর পাঞ্জাবি পরে বইমেলায় মানুষকে জড়ো হতে দেখা গেছে শুক্র ও শনিবার। বিভিন্ন কারণে ফাগুনের প্রথম দিনের রঙে মেতে ওঠা হয়নি, এমন মানুষেরও ভিড় ছিল মেলা প্রাঙ্গণে।

পহেলা ফাগুনের ব্যানার, ফেস্টুন ও ফুলে সজ্জিত বইমেলা যেন গত দুদিন ছিল বর্ণিল ও মনোমুগ্ধকর এক মিলনমেলা। ফাগুনের চোখ ধাঁধানো পরিবেশ এবং বইমেলার সাহিত্যিক আবহে সংমিশ্রণে এক ধরনের এবং মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যা প্রতি বছর দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।

বইমেলা শুধুমাত্র দেশের সাহিত্যিক ঐতিহ্যই তুলে ধরে না, বরং বই পড়ার তাৎপর্যের ওপরেও গুরুত্বারোপ করে। তাছাড়া, পাঠক এবং লেখকদের মধ্যে বইমেলা একটি যোগসূত্র স্থাপনের সুযোগ এনে দেয়। তাই অমর একুশে বইমেলা বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি অপরিহার্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বটে।

একইভাবে পহেলা ফাল্গুনের উৎসবও বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রকৃতি এবং দৈনন্দিন জীবন দুই ক্ষেত্রে ফাগুন আনন্দ ও রঙের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। প্রকৃতিতে সতেজতা এবং তারুণ্যের আবহ দেখে মনে হয়, যেন নতুন করে একটি দেশের জন্ম হয়েছে।

তাই যারা পহেলা ফাগুন উদযাপনের সুযোগ হারিয়েছেন, তারা শুক্রবার বইমেলায় গিয়ে আবারও সেই পরিবেশ আর আবহের সাক্ষী হয়েছেন।

মহাখালী থেকে শুক্রবার বইমেলায় আসা আকিব এবং অর্থি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, জরুরি কাজের কারণে ভালোবাসা দিবস উদযাপন করতে না পারায় কিছুটা মনখারাপ ছিল। তবে বইমেলায় আসতে পেরে তারা আনন্দিত।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে অর্থি বলেন, আজ সাপ্তাহিক ছুটির দিন। ফলে দেরিতে হলেও আমরা ভালোবাসা দিবস উদযাপন করতে এবং নিজেদের প্রিয় কিছু বই কিনতে মহাখালী থেকে পুরো পথ পাড়ি দিয়ে মেলাং এসেছি।

বাসন্তী সাজে বইমেলায় আসা অদিত্রি নামের এক শিক্ষার্থী জানান, পহেলা ফাল্গুনে বইমেলায় ভিড় বেড়ে যায়। তিনি সাধারণত ভিড় এড়িয়ে চলতে পছন্দ করেন। এ কারণে ফাল্গুনের আবহ উপভোগ করতে এবং পছন্দের বই কিনতে তিনি শুক্রবার মেলায় এসেছেন।

ফুল বিক্রেতারাও ফুল এবং ফুলের ব্যান্ডের ব্যাপক চাহিদা নিয়ে অত্যন্ত খুশি। নাঈম নামের ফুল বিক্রেতা বলেন, আমি আনন্দিত যে মানুষ এখনও ফুলের ব্যাপারে যত্নশীল। ভালোবাসা দিবস পার হয়ে গেলেও ফুলের চাহিদা এখনও বেশি, যা আমাকে আমার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করছে। 

আনন্দের হাসি দিয়ে শেষে তিনি বলেন, আমি চাই এমন ভালোবাসা সারা বছর থাকুক।

About

Popular Links