মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের ব্যবহৃত হেলমেটের মান নির্ধারণে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী। তিনি বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মোটরসাইকেল বন্ধ করে নয় বরং সচেতনতার মাধ্যমে দুর্ঘটনা কমাতে হবে।”
রবিবার (২১ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ সড়ক নিরাপত্তা সপ্তাহ উপলক্ষে ব্র্যাক ও বিশ্বব্যাংকের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, “কিছু মানুষ মোটরসাইকেল বন্ধ করতে চায়। কিন্তু এটা ঠিক না। মোটরসাইকেল এখন ক্রমবর্ধমান খাত। জিডিপিতে বড় অবদান রাখে।”
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন পাঁচ থেকে ১৫ জন মারা যায় জানিয়ে তিনি বলেন, “সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঢাকাতে এটা নিশ্চিত করা গেছে যে, প্রায় প্রতিটি চালক হেলমেট ব্যবহার করেন। বিআরটি থেকে বলা হয়েছে লাইসেন্স না থাকলে মোটরসাইকেল কিনতে পারবে না। এখন বিএসটিআই হেলমেটের মান নির্ধারণে কাজ করছে।”
সভায় আলোচকরা বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে পৃথিবীতে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, আহত হয় দুই থেকে পাঁচ কোটি মানুষ। পৃথিবীর মোট যানবাহনের প্রায় ৬০% রয়েছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে, আর দুর্ঘটনার ৯৩% ঘটে এসব দেশে। দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া প্রতি চারজনের একজনই পথচারী বা সাইকেল আরোহী।”
এক প্রশ্নের জবাবে নিরাপদ সড়ক চাই-এর (নিসচা) প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, “বাজারে বর্তমানে মানহীন এবং মানসম্মত দুই ধরণের হেলমেটই রয়েছে। কিন্তু এসব হেলমেট কতদিন ব্যবহার করা যাবে, তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এ নিয়ে একটা নির্দেশনা প্রয়োজন।”
বিএসটিআই মহাপরিচালক মো আবদুস সাত্তার বলেন, “বাজারে তিন হাজার টাকা থেকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে মানসম্মত হেলমেট পাওয়া যায়। তবে এসব হেলমেটেরও একটা লাইফটাইম থাকা প্রয়োজন। কতদিন পর আর এ হেলমেট ব্যবহার করা যাবে না, তা নির্ধারণ করা দরকার।”
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার, পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. আতিকুল ইসলাম, বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুলায়ে সেক।



