২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেটে আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য প্রথমবারের মতো আলাদা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার মতো পরিস্থিতি এ বরাদ্দের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে সামাল দেওয়া হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাস মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো কোনো পরিস্থিতি অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করলে তাৎক্ষণিক তা মোকাবিলায় নির্দিষ্ট খাত থেকে যাতে খরচ করা যায়, সেজন্য ফিসক্যাল বা আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারদর বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি ও কৃষি খাতে ভর্তুকি অনেক বেড়ে গেছে। এছাড়া, হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কয়েক কোটি টাকার চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে।
কিন্তু বাজেটে এসব খাতে বরাদ্দ না থাকায় অর্থের জোগান দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাছাড়া, চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ ভবিষ্যতে আরও সংকট বয়ে আনতে পারে।
কর্মকর্তারা জানান, যেকোনো অপ্রত্যাশিত বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবিলায় চলমান বাজেটে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে দুই হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। এ অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় অর্থ উত্তোলন করতে জটিলতা সৃষ্টি হয়। তাই সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নামে বাজেটে নতুন খাত অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে দেশের ৫২তম ও আওয়ামী লীগ সরকারের ২৪তম বাজেট উপস্থাপন করা হচ্ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল,যা ২০২২-২৩ অর্থবছরের চেয়ে ১২% বেশি।
যুদ্ধ ও মহামারি আক্রান্ত অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়ন, নির্বাচনী বছরের চাপ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখা, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, বাজেট ঘাটতির অর্থায়ন, উন্নয়ন কর্মসূচি চলমান রাখাসহ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার মতো নানামুখী চাপের মধ্যে এই “স্মার্ট ইকোনমির” বাজেট প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার।
অর্থ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এবারের বাজেটের মূল দর্শন হলো ২০৪১ সালের মধ্যে সুখী-সমৃদ্ধ উন্নত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ। গত দেড় দশকে বর্তমান সরকার বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর তৈরি করে দিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় স্মার্ট বাংলাদেশ ৪টি মূল স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে। স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট গভর্নমেন্ট, স্মার্ট সোসাইটি এবং স্মার্ট ইকোনমি।
২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটটি হবে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে প্রথম বাজেট। এবারের বাজেটে সঙ্গত কারণেই স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থবছরের পুরো সময় জুড়েই থাকবে সরকারের নানা ধরনের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং বাড়ানো হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা।



