Wednesday, July 22, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হায়েনার কামড়ে হাত বিচ্ছিন্ন: হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে শিশুটি

জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক বলেন, “শিশু সাইফ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত তার সব চিকিৎসা ব্যয় আমরা বহন করবো’

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৩, ১১:১২ পিএম

রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় খাঁচাবন্দি হায়েনার কামড়ে হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাইফ হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। ভয়ে-আতঙ্কে-ব্যথায়-যন্ত্রণায় বারবার চিৎকার করছে সে।

শুক্রবার (৯ জুন) রাজধানীর শ্যামলীর পঙ্গু হাসপাতালে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে গিয়ে এই অবস্থা দেখা যায়। ওয়ার্ডের ২৬ নম্বর বেডে ভর্তি আছে সাইফ।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশু সাইফের পাশেই বসে আছেন তার বাবা-মা ও স্বজনরা। ছেলের যন্ত্রণায় চোখ বেয়ে জল গড়াচ্ছে মায়ের। নিজেকে সামলিয়ে শত চেষ্টা করেও কোনোভাবেই ছেলের কান্না থামাতে পারছেন না তিনি।

বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে এক দফা অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে সাইফের। সংক্রমণের টিকাও দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তার সুচিকিৎসা ও ঘটনা তদন্তের জন্য আলাদা তদন্ত বোর্ড গঠন করেছে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর।

প্রসঙ্গত, ৮ জুন মিরপুর চিড়িয়াখানায় মা-বাবা ও কয়েকজন আত্মীয়ের সঙ্গে ঘুরতে যায় সাইফ। এক সময় হঠাৎ মায়ের কোল থেকে নেমে হায়েনার খাঁচার কাছে চলে যায় সে। এ সময় খাঁচায় বন্দি হায়েনা কামড়ে নিয়ে যায় তার ডান হাতের কবজির অংশ। এরপর চিড়িয়াখানার লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সরেজমিন হাসপাতালে দেখা যায়, সাইফের বাবা গার্মেন্টকর্মী মো. সুমন মিয়া অস্থির হয়ে ছোটাছুটি করছেন। কখনও ডাক্তারের কাছে, কখনও ছেলের পাশে। একমাত্র সন্তানের সঙ্গে এমন ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন বাবা।

তিনি বলেন, “আমি আশুলিয়া এলাকায় একটি গার্মেন্টে কাজ করি। আজ সকালে ছেলে সাইফকে নিয়ে আমার স্ত্রী এলাকার আরও কয়েকজনের সঙ্গে চিড়িয়াখানায় যায়। দুপুর ১২টার দিকে চিড়িয়াখানায় হায়েনার খাঁচার সামনে মায়ের কোল থেকে নামে সাইফ। হঠাৎই হায়েনার খাঁচার সামনে চলে যায়। খাঁচার ফাঁকা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দিলে হায়েনাটি কামড় দেয়। কামড়ের একপর্যায়ে ডান হাতের কব্জি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে চিড়িয়াখানার লোকজনের সহায়তায় প্রথমে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে তারা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠায়।”

তিনি আরও বলেন, “ছেলেটা আমার বাসা মাতিয়ে রাখতো। সে একটু বাইরে ঘুরতেও পছন্দ করতো। কোথা থেকে কী হয়ে গেলো। তাকে নিয়ে সামনের দিনগুলো কীভাবে কাটবে কে জানে।”

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। এখানে কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি-না খতিয়ে দেখা হবে। শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত তার সব চিকিৎসা ব্যয় আমরা বহন করবো। শিশুটির জন্য হাসপাতালে আমাদের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক একজন থাকবে এবং আমরা মনিটরিংয়ে রাখবো।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সামনে যেন এমনটা আর না ঘটে এজন্য তাদের আরও সচেতন হতে হবে।”

   

About

Popular Links

x