প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এপিএস পরিচয়ে প্রতারণায় কারাভোগের পর এবার রাজশাহীতে নির্বাচন কমিশনার সেজে প্রতারণার দায়ে এক আইটি বিশেষজ্ঞকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) একটি দল।
শনিবার (১৭ জুন) বেলা ১টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান। এরপর ১৬ জুন রাত ১০টার দিকে আসামিকে আরএমপির সদর দপ্তরে নিয়ে আসা হয়।
আসামি গিয়াস উদ্দিন কক্সবাজার মহেশখালীর পুটিবিলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন আইটি বিশেষজ্ঞ। রাজধানীর একটি আইটি ফার্মে চাকরি করতেন।
পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, “আসামি গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) পরিচয়ে প্রতারণার দায়ে ১৩ মাস জেল খেটেছেন। জেল থেকে বেরিয়েই সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়া জনপ্রতিনিধিদের টার্গেট করেন।”
কমিশনার আনিসুর রহমান জানান, আসন্ন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখেও প্রতারণার ফাঁদ পাতেন তিনি। নির্বাচন কমিশনার সেজে ৮ জুন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মো. আরমান আলীকে (৫৫) ফোন দেন। এরপর ওই কাউন্সিলর প্রার্থীর কাছে টাকা দাবি করেন এবং অর্থ না দিলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনের হুমকি দেন। এ ঘটনায় ৮ জুন বোয়ালিয়া থানার আলাদা দুটি জিডি করা হয়। তারই প্রেক্ষিতে সাইবার দলের সহযোগিতায় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি জানান, প্রতারক গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় আরও তিনটি মামলা রয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে তোলা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
এদিকে, ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) পরিচয়ে ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার পরিচয় দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে ১১ জুলাই পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। এরপর কয়েক দফা রিমান্ড শেষে ১৩ মাসের কারাদণ্ডের সাজা খাটেন এই আসামি।



