Sunday, September 27, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ছয় বছরেও শেষ হয়নি সাতৈর রেলগেট ওভারপাসের নির্মাণকাজ

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৩, ০১:৩৮ পিএম

ছয় বছরেও শেষ হয়নি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর রেলগেটে ওভারপাসের নির্মাণকাজ। মধুখালী উপজেলার মাঝকান্দি থেকে গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া পর্যন্ত ৪৪ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এই নির্মাণকাজ চলছে।

যান চলাচল অব্যাহত রাখতে নির্মাণাধীন ওভারপাসের পাশে একটি অস্থায়ী বাইপাস সড়ক রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ ব্যবহারে সেটির অবস্থাও নাজুক। বর্ষায় ছোট-বড় গর্তে প্রতিনিয়তই আটকে যায় যানবাহন। 

এ কারণে প্রায়ই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা। এ নিয়ে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন যাত্রী সাধারণ, স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। 

ওভারপাস ও সড়কটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

মধুখালীর মাঝকান্দি থেকে শুরু হয়ে বোয়ালমারী, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী হয়ে ভাটিয়াপাড়ায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে মিশেছে এ আঞ্চলিক সড়কটি। কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া রেললাইনও চলে গেছে বোয়ালমারীর ভেতর দিয়ে। এ লাইন দিয়ে চলাচল করে রাজবাড়ী-ভাটিয়াপাড়া লোকাল ট্রেনের পাশাপাশি রাজশাহী-গোবরা (টুঙ্গীপাড়া) মেইল ট্রেনও। 

বোয়ালমারীর ব্যস্ততম সাতৈর রেলগেটের অবস্থান এই আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপরে। যানবাহনের ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে সেখানে একটি ওভারপাস নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তাই আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গেই পাস হয় ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয় ৩৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

৪৩৪.৫ মিটার দীর্ঘ ওভারপাসটির কাজ ২০১৭ সালের ৭ আগস্টে শুরু হয়। তবে দৃশ্যমান অগ্রগতির আগেই হঠাৎ স্থগিত হয়ে যায় নির্মাণকাজ। গ্রীষ্মকালে ধূলা, দূষণ আর বর্ষায় পানি-কাদায় নাজেহাল স্থানীয় জনগণ।

মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা এ প্রকল্প নিয়ে ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, “কবে শেষ হবে রেলওয়ে ওভারপাসের নির্মাণকাজ? কবে মুক্তি মিলবে এ যন্ত্রণা থেকে?”

ভোগান্তির বৃত্তান্ত

বাইপাস সড়কের খানাখন্দে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি ভারি যানবাহন উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিকল্প এই রাস্তা ২০২২ সালে কোনোমতে সংস্কার করা হয়। 

অগ্রণী ব্যাংক বোয়ালমারী শাখার কর্মী শেখ মো. তৈয়ব আলী প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, “২০২০-২১ সালে প্রায় প্রতিদিন সাতৈর বাইপাস সড়কে যানবাহন আটকে যেত। সময়মতো অফিসে পৌঁছানো যেত না। শুকনো মৌসুমে ধুলায় অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দীন বলেন, দীর্ঘদিন কাজ না করে এভাবে ফেলে রেখে মানুষ ও যানবাহনের ক্ষতি হচ্ছে।

ছয় বছরে কাজের অগ্রগতি ৩৫%/ঢাকা ট্রিবিউন

স্থানীয় সাতৈর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মজিবর রহমান বলেন, “এত সুন্দর রাস্তা। অথচ সামান্য এইটুকুর জন্য দুর্ভোগের শেষ নেই। মানুষের কষ্ট চোখে না দেখলে বিশ্বাস করার মতো নয়।”

দ্রুত ওভারপাসের কাজ শেষ  করার দাবি জানান তিনি।

থমকে থাকার কারণ

সড়ক ও জনপথ (সওজ) কার্যালয় সূত্র জানায়, ফরিদপুরের সহস্রাইল-আলফাডাঙ্গা সংযোগ সড়কের উন্নয়নসহ মাঝকান্দি-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ ২০১৬ সালে একনেকে অনুমোদন পায়। এতে বরাদ্দ ছিল ২৩৯.৬৪ কোটি টাকা। প্রকল্প শুরুর তারিখ ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

তবে আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ শেষ হয় ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে। সড়কটি ফরিদপুর অংশে ৩৫.৫৯ কিলোমিটার। সাতৈর ওভারপাসটি ১৫তম কিলোমিটারে।

ওভারপাসটি এই প্রকল্পেরই অন্তর্ভুক্ত। এক তৃতীয়াংশেই কেন কাজ থমকে আছে সে বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড বা মেসার্স এমএস প্রকৌশলী নির্মাণ বিশারদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু জেলা সওজ কার্যালয়ে তাদের ফোন নম্বর পাওয়া যায়নি। নির্মাণ সংশ্লিষ্ট এলাকায়ও তাদের কোনো কর্মী বা প্রতিনিধিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে সম্প্রতি কয়েকজন শ্রমিককে ওভারপাসে কাজ করতে দেখা যায়। কথা হয় আশা কনস্ট্রাকশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. আলতাফ হোসেনের সঙ্গে।

নিজেকে এ প্রকল্পের একজন সাব-কন্ট্রাক্টর দাবি করে তিনি জানান, আরেকজন অংশীদারের সঙ্গে এম এম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের কাছ থেকে ওভারব্রিজের ওপরের অংশে রড বাঁধাই ও ঢালাইয়ের চুক্তি নিয়েছেন। 

আলতাফ হোসেন গত বছরের ডিসেম্বরে কাজ নিয়েছেন। এম এম বিল্ডার্স ঠিকমতো মালামাল সরবরাহ করলে ছয় মাসের মধ্যে তার কাজ শেষ করতে পারবেন বলে জানান আলতাফ হোসেন।

সওজ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য

এ বিষয়ে সওজ ফরিদপুরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুমন কর্মকার বলেন, “সাতৈর রেলওয়ে ওভারপাসের মূল ঠিকাদার এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। কিন্তু কাজটি জয়েন্টভেঞ্চারে নিয়ে নেয় মেসার্স এমএস প্রকৌশলী নির্মাণ বিশারদ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান। যার স্বত্বাধিকারী সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ।”

সুমন কর্মকার আরও বলেন, “ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৭ সালের ৭ আগস্ট কাজ শুরু করে। এখন পর্যন্ত ৩৫% কাজ হয়েছে। বারবার তাগিদের পরেও নানা অজুহাতে তারা কাজ ফেলে রেখেছে।”

সওজ ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান ফারহান সুমেল জানান, “ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার তাগিদ দিতে দিতে তারা সাব ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ শুরু করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাইপাস সড়কটি মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করা হবে।”

   

About

Popular Links

x