Wednesday, July 22, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হায়েনার কামড়ে হাত বিচ্ছিন্ন: মানসিক সমস্যায় ভুগছে শিশুটি

কামড়ে হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া শিশু সাইফকে প্রায় দুই সপ্তাহ হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৩, ১২:৫৯ পিএম

রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় খাঁচাবন্দি হায়েনার কামড়ে হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাইফকে প্রায় দুই সপ্তাহ হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে। কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায় সে। তবে শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছে তার। হায়েনার কথা মনে করে বারবার কেঁদে ওঠে সাইফ। ফলে সুস্থতা ও তার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে তার পরিবার।

৮ জুন মিরপুর চিড়িয়াখানায় মা-বাবা ও কয়েকজন আত্মীয়ের সঙ্গে ঘুরতে যায় সাইফ। এক সময় হঠাৎ মায়ের কোল থেকে নেমে হায়েনার খাঁচার কাছে চলে যায় সে। এ সময় খাঁচায় বন্দি হায়েনা কামড়ে নিয়ে যায় তার ডান হাতের কবজির অংশ। এরপর চিড়িয়াখানার লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে টানা ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে পরিবারের সঙ্গে আশুলিয়ার ভাড়া বাসায় যায় সাইফ।

সাইফ এখন কেমন আছে জানতে চাইলে তার বাবা মো. সুমন মিয়া অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থ। তবে বাসায় ফেরার পর তার মানসিক সমস্যা হচ্ছে। প্রচুর কান্নাকাটি করেছে। ওই সময়ের (হায়েনার হামলা) ভয়টা এখনও তাকে তাড়া করে ফেরে। বিষয়টি বুঝতে পেরে মানসিক হাসপাতালে নিয়ে যাই। বর্তমানে আগের চেয়ে ভালো আছে। তবে এখন আর আগের মতো কথা বলছে না সাইফ।”

তিনি আরও বলেন, “হাতের ব্যান্ডেজ ড্রেসিংয়ের জন্য গত বুধবার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের সঙ্গে চিড়িয়াখানার লোকজনও ছিলেন। তারা চিকিৎসার যাবতীয় সাহায্য করছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আমাদের আশ্বস্ত করেছেন আমার ছেলের পাশে থাকবে। ভবিষ্যতে আমার ছেলেকে কি তারা দেখবে? যদি না দেখে তাহলে তার কী উপায় হবে? দুশ্চিন্তা তো হচ্ছেই।”

সাইফের বাবা সুমন পোশাক কারখানায় কাজ করেন। সংসারের হাল ধরতে সুমনের স্ত্রীও চাকরি শুরুর কথা ভাবছিলেন। চাকরিও হয়েছিল। কিন্তু সেটা আর তার করা হলো না। একমাত্র সন্তানের এমন দুর্ঘটনার পর ভেঙে পড়েছেন মা। সারা দিন ছেলেকেই সময় দিচ্ছেন তিনি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইফকে দেখতে গিয়েছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এ সময় তিনি শিশুটির বাবা-মাকে সমবেদনা জানিয়ে এক লাখ টাকা তুলে দেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে শিশুটির বিষয়ে কথা বলেন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া। তখন শিশুটিকে সরকারের পক্ষ থেকে কৃত্রিম হাত লাগিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেন মন্ত্রী। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে হাসপাতালকে বলা হয়েছে সুমনের যখন ১৮ বছর হবে তখন তার কৃত্রিম হাত লাগিয়ে যেন দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “সামনের দিগুলোতে তার যেকোনো সমস্যায় আমরা পাশে আছি। গত সপ্তাহে হাসপাতালে তার ড্রেসিং করা হয়েছে, তখনও  আমাদের লোক সেখানে উপস্থিত ছিল। যখন যেটা প্রয়োজন সেটিই আমরা করার চেষ্টা করছি।”

পরিবারের লোকজন শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা পড়েছে, চিড়িয়াখানার পক্ষ থেকে স্থায়ীভাবে কোনো সহযোগিতা করা হবে কি-না, এমন  প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা তো বলেছি তার খোঁজ-খবর রাখবো। আমরা তার পাশে থাকবো।”

   

About

Popular Links

x