একটা সময় বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) এবং এপ্রিল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা শুরু হতো। তবে করোনাভাইরাস মহামারি কারণে বিগত তিন বছরে পরীক্ষা দুটির সময়সূচিতে বেশ পরিবর্তন এসেছিল। তবে আগামী বছর থেকে আবারও ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা এবং এপ্রিলে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর দিন সকালে ঢাকার ফার্মগেটে তেজগাঁও কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ কথা জানান। এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোলেমান খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার উপস্থিত ছিলেন।
আগামী বছর এইচএসসি পরীক্ষা কোন মাসে শুরু হতে পারে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, “আগামী বছর এপ্রিলে এইচএসসি শুরুর চেষ্টা থাকবে। এবারও আমরা চেষ্টা করেছিলাম। অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করবে। এসএসসি চেষ্টা করবো আগের মতো ফেব্রুয়ারিতে নিতে।”
ঢাকার ব্যস্ত সড়কে যানজট নৈমিত্তিক ঘটনা। এইচএসসি পরীক্ষাদেরও এই যানজট ঠেলেই পরীক্ষাকেন্দ্রে আসতে হয়। তীব্র যানজটের বিষয়টি মাথায় রেখে পরীক্ষার সময় একটু এগিয়ে আনা যায় কি-না জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসির ক্ষেত্রে সময় এগোনোর সুযোগ থাকলেও এইচএসসির বেলায় সেটা বেশ কঠিন।

তিনি বলেন, “এসএসসির সময় আমরা এটা করেছিলাম। কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষা দুই বেলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুই বেলা পরীক্ষা থাকলে দেরিতে শুরু করলে সমস্যা হয়ে যায়। আমরা দেখেছি অনেক বেশি ভিড় হয়, যানজট হয়। পরীক্ষার্থীদের অনেক সময় হাতে নিয়ে বাসা থেকে বের হতে হয়। দেরি হয়ে গেল কি-না, সেটা নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বিগ্নতা কাজ করে। এ কারণে সময়ের সমন্বয় করলে ভালো হয়। কিন্তু দুই বেলা পরীক্ষা থাকলে সেটা আর করা যায় না।”
বিভিন্ন কেন্দ্রের অগোছালো পরিবেশ প্রসঙ্গে ডা. দীপু মনি বলেন, “আমরা খেয়াল করেছি প্রতি কেন্দ্রের বাইরে অনেক ভিড়। পরীক্ষার্থীদের বাবা-মা-অভিভাবক ভিড় করেন। অবশ্য আমরা যখন পরীক্ষা দিয়েছি, তখনও আমাদের বাবা-মায়েরা আসতেন। আমরা কাউকে দোষ দিতে পারি না। বাবা-মা যারা আসেন, তারা একদম গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলে অন্য পরীক্ষার্থীদের সমস্যা হয়। আমি আহ্বান করব, আপনার সন্তানের মতো অনেকের সন্তান পরীক্ষা দিচ্ছে। তাই একটু দূরে থাকুন।”

প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন বা প্রশ্নফাঁস হয়েছে নাকি জানতে চাইলে ডা. দীপু মনি বলেন, “আশা করি এবার নতুন কোনো সমস্যা হবে না। পুরোনো সমস্যাগুলো যেন না ঘটে, সে জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশা করি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাঁচ বছর ধরে প্রশ্ন ফাঁস নেই। গুঞ্জনও কমে এসছে। আশা করি এবারও থাকবে না।”
প্রতি বছর এইচএসসির ফরম পূরণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩৫০ কোটি টাকা নেওয়া হয়। আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প কিছু করা যায় নাকি জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন দারিদ্র্য যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। অর্থাৎ রাষ্ট্র তার দায়িত্ব নেবে। সেই প্রতিজ্ঞা বঙ্গবন্ধু করে গেছেন।”
তিনি আরো বলেন, “এখন বঙ্গবন্ধুকন্যা তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছেন। কাজেই কোনো শিক্ষার্থী যদি এই রকম অবস্থায় (আর্থিকভাবে অসচ্ছল) থাকে, আমরা তার জন্য সব ব্যবস্থা করতে পারি। যদিও আজকাল ওই রকম অবস্থা খুব কম। যেসব শিক্ষার্থীর সক্ষমতা নেই, তাদের ভর্তির ব্যবস্থা করবে, টিউশন ফি ফ্রি করে দেওয়া, সেটাও তারা করবে বলে আশা করি। আর সরকারের তো উপবৃত্তি আছেই।”



