Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চারিদিকে কেউ নেই, ব্রিজের ওপর কেবল রুমার লাশ

  • স্বামীর দিকে অভিযোগের তীর
  • শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক
  • শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান স্বজনরা
আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৩, ০৬:৫০ পিএম

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় রুমা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ রাস্তায় ফেলে তার স্বামী পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের পাতরাইল দক্ষিণ দিঘিরপাড় এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

রুমা বেগমের স্বামী দিঘিরপাড় গ্রামের টোকন মাতুব্বর। তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায়। স্বামীর সঙ্গে ঢাকার বাড্ডা এলাকায় থাকতেন তিনি।

রুমার স্বজনরা জানান, শনিবার সকালে রুমার স্বামী টোকন মাতুব্বরের ভাগ্নে হৃদয় মিয়ার ফোন থেকে তাদের জানানো হয়, রুমা “আত্মহত্যা” করেছেন। তার মরদেহ নিয়ে যেতে বলা হয়। ঘটনার সত্যতা জানতে রুমার স্বামী টোকনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। 

এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বাড্ডা এলাকায় রুমার ভাড়া বাসায় গিয়ে রুমার খোঁজ পাননি পরিবারের লোকজন।

তারা জানান, শনিবার দুপুরের পর অপরিচিত একটি ফোন নম্বর থেকে রুমার মামা বাবুলকে বলা হয়, “রুমার লাশ এখন ভাঙ্গায় আছে। তাকে রাস্তার ওপর রাখা হয়েছে, সেখানে গিয়ে লাশ বাড়িতে নিয়ে যান।”

এ খবর পেয়ে রুমার স্বজনরা ভাঙ্গায় রুমার শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পাতরাইল দক্ষিণ দিঘিরপাড় এলাকায় এলে তারা একটি সেতুর ওপর স্টিলের খাটিয়ায় চাদর দিয়ে ঢাকা লাশ দেখতে পান। 

ঘটনাস্থলে আর কাউকে দেখতে পাননি তারা। লাশ নিয়ে রুমার শ্বশুরবাড়ি গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ সন্ধ্যায় মরদেহ থানায় নিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী সোবহান তালুকদার বলেন, “দুপুরের দিকে সাইরেন বাজিয়ে দক্ষিণ দিঘিরপাড় এলাকার একটি অ্যাম্বুলেন্স আসে। কয়েকজন লোক তড়িঘড়ি করে অ্যাম্বুলেন্স থেকে লাশটি নামিয়ে রাস্তায় ফেলেই পালিয়ে যায়।”

মৃতের মা ও ছোট বোন জানান, বছরখানেক আগে রুমার স্বামী কাউকে না জানিয়ে ঢাকায় আরেকটি বিয়ে করেন। কিছুদিন পর তাকে তালাকও দেন। সম্প্রতি সেই নারীর সঙ্গে টোকনের গোপনে যোগাযোগের বিষয়টি টের পান রুমা। এ নিয়ে স্বামীর সঙ্গে প্রায়ই তার ঝগড়া হতো।

রুমার মামা বাবুল হোসেন জানান, তার ভাগ্নির বাম হাত ও পা ভাঙা ছিল। মুখে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে পরিকল্পিত ও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। 
এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তারা।   

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়ারুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সন্ধ্যার পর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রবিবার ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা হয়েছে। সেখানেও তদন্ত চলছে।”

   

About

Popular Links

x