ঢাকার ধামরাই উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের গোয়ালদী গ্রামের কৃষক আনিসুর রহমান (৫০)। ধার-দেনা করে এ বছর ৫০ শতক জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছেন। আশা ছিল, এই ধান দিয়েই তার চার সদস্যের পরিবারের সারা বছর পার হয়ে যাবে। কিন্তু জমির নিকটবর্তী ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে নষ্ট হয়ে গেছে ক্ষেতের সব ধান।
আনিসুরের চিন্তা, এখন কীভাবে পরিশোধ করবেন ঋণ, আর কীভাবেই চলবে সংসার? ইটভাটার গ্যাসে নষ্ট হয়ে যাওয়া ক্ষেতের পাশে বসে বিলাপ করছিলেন এই কৃষক।
শুধু আনিসুরই নন, গোয়ালদী গ্রামের আব্দুল আহাদ বাবু, দারোগ আলী, কবির হোসেন। পার্শ্ববর্তী ডাউটিয়া গ্রামের ওয়ারেছ আলী, আব্দুল মোন্নাফ। কালামপুর গ্রামের মোস্তাক হোসেন, আব্দুল মান্নানসহ কয়েকজন কৃষকের ১৮ বিঘা জমির আমন ধানের ক্ষেত ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া ও গ্যাসের আগুনে পুড়ে গেছে।
ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে কৃষকদের পক্ষে আব্দুল আহাদ বাবু নামে ক্ষতিগ্রস্ত এক সাংবাদিক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ফলন ধরা ধান পুড়ে চিটা
বুধবার সকালে ওই এলাকায় গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলেন, উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের ডাউটিয়া এলাকায় এক, দুই ও তিন ফসলি জমিতে সাতটি ইটভাটা গড়ে উঠেছে।
এর মধ্যে ইউএসএ নামে একটি ভাটায় মাসখানেক আগেই ইট পোড়ানো শুরু হয়। সম্প্রতি টানা কয়েক দিন বৃষ্টি হলে ইটভাটা কর্তৃপক্ষ চুল্লির আগুন হঠাৎ বন্ধ করে জমাট বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে দেয়। এ ঘটনার পরপরই এলাকার বাতাস উত্তপ্ত হয়ে যায়। ওই গরম বাতাস যে দিক দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সেই অংশের ধানক্ষেতই পুড়ে গেছে।
এতে ডাউটিয়া, কালামপুর ও গোয়ালদী গ্রামের প্রায় ১৮ বিঘা জমির আমন ধানের ক্ষেত পুড়ে গেছে। এখন শুধুই ধানের শিষে চিটা দুলছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে- গোয়ালদী গ্রামের আব্দুল আহাদ বাবু (৮০ শতক), আনিসুর রহমান (৫০ শতক), দারোগ আলী (১০ শতক), কবির হোসেন (২০ শতক), ডাউটিয়া গ্রামের ওয়ারেছ আলী (৩০ শতক), আব্দুল মোন্নাফ (৬০ শতক), কালামপুর গ্রামের মোস্তাক হোসেন (১০০ শতক) ও আব্দুল মান্নান (১০০ শতক) জমির আমন ধান পুড়ে গেছে।
ক্ষতিপূরণ না পেলে পথে বসতে হবে
গোয়ালদী গ্রামের কৃষক ও সেচ পাম্পের মালিক দারোগ আলী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমার প্রজেক্টে ৩০ বিঘা জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ বিঘা জমির ধানই ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে পুড়ে গেছে। এখন ক্ষতিপূরণ না পেলে পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না।”
স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল আহাদ বাবু জানান, তিনি ৮০ শতক জমিতে এবার আমন ধান চাষ করেছেন। ফলনও ভালো এসেছিল। আর দুই সপ্তাহ পার হলেই কাটার উপযোগী হতো। তার আগেই ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসের তাপে সব ধান পুড়ে চিটা হয়ে গেছে।
কৃষকরা আরও জানান,গত দুই বছর আগেও ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় তাদের এলাকার প্রায় ৫০ বিঘা জমির বোরো ধান, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল পুড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
এ বিষয়ে ইউএসএ ব্রিকসের মালিক নাজমা বেগম বলেন, “আমার ভাটার কারণে কোনো ধানক্ষেত নষ্ট হয়নি। আমার ভাটার পাশে আরও ইটভাটা আছে, সেই ভাটার কারণেও হতে পারে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কোনো কৃষক আমার কাছে আসেনি।”
ধামরাইয়ের ইউএনও হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুতই উপজেলা কৃষি অফিসারকে পাঠিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



