Sunday, June 28, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পেটের ভেতর ৬,২৭৫ ইয়াবা এনে ধরা চার রোহিঙ্গা

ইয়াবা বহনের ব্যাপারে স্বীকারোক্তি দেয়ার পর তাদের জাতীয়তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা নিজেদের রোহিঙ্গা বলেও স্বীকার করেন

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৩, ১১:২৭ পিএম

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৬,২৭৫ ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা নারী ও এক কিশোরসহ একই পরিবারের তিন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। পেটের ভেতরে ইয়াবা বড়িগুলো নিয়ে উড়োজাহাজে করে কক্সবাজার থেকে ঢাকা এসেছিলেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন, আলী আহমদ (২৮), আছিয়া বেগম (২৫), জোহুরা বেগম (৩০) ও মো. রুবেল (১৫)। দুই নারীর সঙ্গে দুটি দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিল। অভিযুক্ত সবাই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক। তারা কক্সবাজার টেকনাফের লেদা ক্যাম্পের অধিবাসী।

পুলিশ জানায়, সন্ধ্যায় নভোএয়ারের ফ্লাইটে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আসে একটি পরিবার। দুই শিশু ও এক কিশোরসহ ছয় সদস্যের এই পরিবারকে এপিবিএন এর গোয়েন্দা দলের সন্দেহ হলে নজরদারিতে রাখা হয়। তাদের আটক করে এয়ারপোর্ট এপিবিএন অফিসে আনা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা ইয়াবা বহন বা কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। নিজেদের তারা বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেন। পরবর্তীতে তাদের পেটের এক্স-রে করা হলে মো. রুবেল তার ফুফু আছিয়া বেগম ও তার চাচী জোহুরা বেগমের পাকস্থলীতে অস্বাভাবিক বস্তুর উপস্থিতি নিশ্চিত হয় পুলিশ। আছিয়া বেগমের সঙ্গে ৭ মাস বয়সী ও জহুরা বেগমের সঙ্গে ১০ মাস বয়সী দুই দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিল।

বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, এই পরিবারটি ইয়াবা পাচারের সাথে জড়িত আছে। এই সন্দেহ যাচাই করতে পরিবারের চার সদস্যকে বিমানবন্দরের সংলগ্ন উত্তরার একটি প্যাথলজি সেন্টারে পরীক্ষা করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় ডাক্তারি পরীক্ষায় তিনজনের পেটে অস্বাভাবিক বস্তুর উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর তারা আরো জোরদার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে স্বীকার করেন যে তারা পাকস্থলীতে ইয়াবা বহন করছেন। ইয়াবা বহনের ব্যাপারে স্বীকারোক্তি দেয়ার পর তাদের জাতীয়তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা নিজেদের রোহিঙ্গা বলেও স্বীকার করেন।

তিনি জানান, এই পরিবার ইয়াবা বহনের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন আছিয়া বেগমের স্বামী আলী আহমদ (২৮)। যদিও তিনি নিজের পেটে ইয়াবা বহন করেনি। জাতীয়তা ও ইয়াবা বহনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর রাতেই তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায় বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটি দল। সেখানে তিন রোহিঙ্গা নাগরিকের পাকস্থলী থেকে ডাক্তারের তত্ত্বাবধায়নে মোট ১৩০টি ইয়াবার প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এইসব ইয়াবার প্যাকেট থেকে ইয়াবা গণনা করে সেখানে মোট ৬,২৭৫ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। কিশোর মো. রুবেলের পাকস্থলীতে ৪০ প্যাকেটে মোট ১,৯৩০ পিস, আছিয়ার পাকস্থলীতে ৫২ প্যাকেটে মোট ২,৫১১ পিস এবং জহুরা বেগমের পাকস্থলীতে ৩৮ প্যাকেটে ১,৮৩৪ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

   

About

Popular Links

x