Tuesday, September 15, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাণিজ্যমন্ত্রী: আমার এলাকায় নারীরা দিনে তিনবার লিপস্টিক লাগায়

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমি খুব ভালো জানি, আমার কোনো সমস্যা নেই

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:১৩ পিএম

নিজের এলাকার মানুষেরা কষ্টে নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। পরিস্থিতি ইতিবাচক তুলে ধরতে গিয়ে তিনি জানান, “তার এলাকার নারীরা দিনে তিন বার করে লিপস্টিক লাগাচ্ছে। চার বার করে স্যান্ডেল বদলাচ্ছে।”

বুধবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসি মনিটরিং ও রিভিউ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি খুব ভালো জানি, আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সারা দেশের অবস্থাটা ভিন্ন। শহরের যারা দিনমজুর, নিম্ন শ্রেণির তাদের খুব কষ্ট হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “এই প্রভাব কাটানো সম্ভব হবে, যদি আপনারা ইতিবাচক হন। বৈশ্বিক পরিস্থিতিসহ সার্বিক কারণে এটা হয়েছে। কাজেই এটিকে বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনে প্রভাব ফেলা ঠিক হবে না। এটা নির্ভর করে আপনারা কতটুকু ইতিবাচক হবেন, তার ওপর।”

তিনি বলেন, “ধরুন, আমার এলাকা, আমার এলাকার মানুষের কষ্ট নেই। কারণ, তারা আলুর দাম পাচ্ছে। আমাদের তো কৃষিভিত্তিক এলাকা। একেকটা এলাকা একেক রকম। ঢাকা শহরে যে নির্বাচন করবে, তার অনেক সমস্যা। কিন্তু আজ থেকে ২০ বছর আগে আমার এলাকায় ১০টা মোটরসাইকেল ছিল, ২০০১ সালে। তখন আমি প্রথম নির্বাচন করি। আজকে সেখানে হাজার হাজার মোটরসাইকেল।”

মন্ত্রী বলেন, “আমার এলাকা আলুভিত্তিক, কৃষিভিত্তিক। তাদের কোনও কষ্ট নেই। সেখানকার নারীরা দিনে তিন বার করে লিপস্টিক লাগাচ্ছে। চার বার করে স্যান্ডেল বদলাচ্ছে। আমি খুব ভালো জানি, আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সারা দেশের অবস্থাটা ভিন্ন। শহরের যারা দিনমজুর, নিম্নশ্রেণির তাদের খুব কষ্ট হচ্ছে।”

নিত্যপণ্যসহ সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ার প্রভাব কাটানো সম্ভব কি না প্রশ্নে তিনি বলেন, “এই প্রভাব কাটানো সম্ভব হবে, যদি আপনারা ইতিবাচক হন। বৈশ্বিক পরিস্থিতিসহ সার্বিক কারণে এটা হয়েছে। কাজেই এটিকে বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনে প্রভাব ফেলা ঠিক হবে না। এটা নির্ভর করে আপনারা কতটুকু ইতিবাচক হবেন, তার ওপর।”

পোশাক শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে অসন্তোষের বিষয়ে তিনি বলেন, “দেখেন, একশ ভাগ শান্তি ঠিক করা যায় না। কেউ, কেউ খুশি হবেন, কেউ অখুশি হবেন। যারা খুশি না, তারা যদি ২০,০০০ টাকা বেতন পেতেন, তাহলে তারা খুশি হতেন। আমাদের একটি জায়গায় আসতে হবে, যেখানে দু’পক্ষই রক্ষা হয়। সেখানে ১০০% সন্তুষ্ট করা যায় না।”

তিনি আরও বলেন, “গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতনই কেবল বাড়ানো হয়নি, তাদের বেসিকের অ্যামাউন্টও বাড়ানো হয়েছে। আপনারা জানেন, সাড়ে ১২ হাজার টাকা বেতনের সঙ্গে দিনে যদি দুই ঘণ্টা ওভার টাইম করে, একটা হাজিরা বোনাস পায় তারা, কাজেই যারা বেতন সাড়ে ১২ হাজার টাকা, সেই কিন্তু ষোলো থেকে সতেরো হাজার টাকা তুলবে। এই কথাটা সাধারণভাবে জানা যায় না। এরপর প্রত্যেককে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, তাতে মাসে অন্তত ৫০০ টাকা সাশ্রয় হবে।”

বৈশ্বিক পরিস্থিতি অনুযায়ী দেশের বাজারে দাম খুব বেশি নয় দাবি করে মন্ত্রী বলেন, “কিন্তু আমাদের আয়ের সঙ্গে চিন্তা করলে এটা অবশ্যই বেশি। সে কারণে পোশাক শ্রমিকদের বেতন ৮,০০০ টাকা থেকে ৫৬% বাড়িয়ে সাড়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়েছে।”

টিপু মুনশি বলেন, “অর্থনীতিবিদরা মনে করেন মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এখন মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৯%-এর ওপরে। সেটা কিন্তু আমাদের মাথায় রাখতে হবে। জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। এটা সার্বিক অর্থনীতির ওপর একটা বড় প্রভাব ফেলেছে।”

   

About

Popular Links

x