Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, ৩০ শিক্ষক-কর্মকর্তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত

তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা কোনো পদত্যাগপত্র পাননি

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:২৫ এএম

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুকৃবি) ৩০ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জনই বিভাগীয় প্রধান, প্রভোস্ট, অ্যাকাডেমিক পরিচালক ইত্যাদি পদে দায়িত্বরত। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা কোনো পদত্যাগপত্র পায়নি।

পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া শিক্ষকরা বলছেন, খুকৃবি শিক্ষকদের একাংশের নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান, পদোন্নতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার বাস্তবায়ন দাবিতে তারা গত ৫ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন। আগের দিন (৪ ডিসেম্বর) শিক্ষক সমিতির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 

পৃথক পদত্যাগপত্রে সই করে তারা তা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার খন্দকার মাজহারুল আনোয়ার বরাবর জমা দিয়েছেন।

তবে রেজিস্ট্রার মাজহারুল আনোয়ারের দাবি, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। তবে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো পদত্যাগপত্র তার হাতে আসেনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা অফিসিয়ালি ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো ধরনের পদত্যাগপত্র হাতে পাইনি।”

তবে দায়িত্বশীল একটি সূত্র বলছে, ৩০ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা পদত্যাগপত্র জমা দিলেও কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করেনি। 

পদত্যাগকারী শিক্ষক-কর্মকর্তারা হলেন- মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড পাবলিক হেলথ্ বিভাগের প্রধান মো. সালাউদ্দিন, ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের প্রধান রাবেয়া আক্তার, অ্যানাটমি বিভাগের প্রধান ড. নৌশিন জাহান, অ্যাগ্রিকালচারাল কেমিস্ট্রি বিভাগের প্রধান আবু রাশেদ মো. মওকিব, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের প্রধান শরিফুল ইসলাম, ফিশারি রিসোর্সেস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান সঞ্জীব কুমার বর্মন, অ্যাগ্রিকালচারাল ফাইন্যান্স, কো-অপারেটিভস অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান সৌরভ মোহন সাহা, অ্যানাটমি অ্যান্ড হিস্টোলজি বিভাগের প্রধান স্বরূপ কুমার কুণ্ডু, ওশানোগ্রাফি বিভাগের প্রধান জেসমিন আরা, ক্রপ বোটানি বিভাগের প্রধান কেয়া আক্তার, অ্যানিম্যাল সায়েন্স বিভাগের প্রধান মো. উজ্জ্বল হোসেন, সয়েল সায়েন্স বিভাগের প্রধান মো. জোনায়েত, সোশিওলজি অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট বিভাগ প্রধান কাজী মৌসুমী আক্তার, অ্যাগ্রিকালচারাল ইকোনমিক্স বিভাগের প্রধান আনিকা তাহসিন মৌ, অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিক্স বিভাগের প্রধান হুমায়রা ইয়াসমিন, ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কমিউনিকেশন স্টাডিজ বিভাগের প্রধান পূজা রায়, কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের প্রধান মোছা. সাবিনা আলীম, ফার্ম স্ট্রাকচার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান গাজী তমিজ উদ্দিন, ফিজিওলজি বিভাগের প্রধান জান্নাতুল ফোরদৌস, পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগের প্রধান শারমিন জামান। এছাড়া ওশানোগ্রাফি বিভাগের প্রভাষক ও ফিশ হেলথ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বশির আহমেদ, ফিশারিজ অ্যান্ড কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগের ভাস্কর চন্দ্র মজুমদার তার সাময়িক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ছাত্র হলের সহকারী প্রভোস্ট ড. মো. আসাদুজ্জামান, অস্থায়ী ছাত্রী হলের সহকারী প্রভোস্ট আতিয়া বিশ্বাস ও পাপিয়া খাতুন, ইন্টার্নাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের পরিচালক ড. নৌশিন জাহান, ফার্ম পাওয়ার অ্যান্ড মেশিনারিজ বিভাগের শিক্ষক ও পরিবহন পরিচালনা কমিটির আহ্বাবায়ক মো. তুহিনুল হাসান, অস্থায়ী ক্যাম্পাস ১-এর নিরাপত্তা কমিটির সদস্য জয়শংকর বৈদ্য, অস্থায়ী ক্যাম্পাস ২-এর নিরাপত্তা কমিটির সদস্য ভাস্কর চন্দ্র মজুমদার, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন সিস্টেমের সদস্য বিদ্যুৎ মাতুব্বর, অস্থায়ী ক্যাম্পাস ১-এর নিরাপত্তা কমিটির আহ্বায়ক স্বরূপ কুমার কুণ্ডু, অস্থায়ী ক্যাম্পাস ২-এর নিরাপত্তা কমিটির আহ্বায়ক শরীফুল ইসলামও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশিকুল আলম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত আমরা ৭৩ জন শিক্ষক মেনে নিয়েছি। তারপরেও শিক্ষকদের পদোন্নতি আটকে রাখা হয়েছে। উপাচার্য যদি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুমোদন দিয়ে দেন, তাহলেই জটিলতা কেটে যায়।”

২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টি নিয়োগ বাণিজ্য, অনিয়ম, শিক্ষকদের নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ, সাবেক উপাচার্যের ছেলে-মেয়ের চাকরিচ্যুতিসহ নানা কারণে সবসময়ই আলোচনায় ছিল। শিক্ষকদের পদোন্নতি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দেওয়ার দাবিতে গত ১৬ অক্টোবর থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন শিক্ষক সমিতির প্রায় সব সদস্য। গত ৯ নভেম্বর তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন। 

এর আগে গত ৬ নভেম্বর খুকৃবির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে সাবেক উপাচার্যের স্বজনদের চাকরিচ্যুতিসহ ২৬ জন শিক্ষককে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়। গত ১৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশিকুল আলমের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠিত হয় এবং মেহেদী আলম নামে এক শিক্ষককে অব্যাহতি দেয়। মন্ত্রণালয়ের অন্য সিদ্ধান্তগুলো অনুমোদন করে সিন্ডিকেট।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতারা বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে তাদের নির্দেশনার কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি। শিক্ষকদের আশংকা, নির্দেশনা বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ ও বৈষম্য করা হচ্ছে। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া শর্ত পূরণ হচ্ছে না এবং শিক্ষকগদের পদোন্নতি সমস্যা সমাধানেরও কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১০৬ জন শিক্ষক, ৩৫০ জন শিক্ষার্থী এবং ৩১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে উচ্চশিক্ষা এবং মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন ২০ জন শিক্ষক। বাকিরা এখন দুই ভাগে বিভক্ত। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবুল কাশেম চৌধুরী বলেন, “সিন্ডিকেটের অনুমোদন সাপেক্ষে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে। নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা, শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়গুলো সাবেক উপাচার্যের আমলের। তবুও বিষয়গুলো সমাধানে কাজ চলছে। কিছু বিষয়ে আদালতে প্রক্রিয়াধীন। অন্য বিষয়গুলো শিগগিরই সমাধান হবে।”

৩০ জন শিক্ষকের পদত্যাগের বিষয়ে অধ্যাপক আবুল কাশেম বলেন, “তারা কোন প্রক্রিয়ায় পদত্যাগ করেছেন সেটা আমাদের জানা নেই।”

এদিকে, এমন অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। সেশনজটের আশঙ্কা করছেন তারা।

   

About

Popular Links

x