বহুল প্রতীক্ষিত গ্রেটার সাসটেইনেবল আরবান ট্রানজিট প্রজেক্ট (বিআরটি, গাজীপুর-এয়ারপোর্ট) প্রকল্পের কাজ ৯০% শেষ হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। এর মাধ্যমে গাজীপুরসহ দেশের উত্তরাঞ্চল ও বৃহত্তর ময়মনসিংহগামী যানবাহন ও যাত্রীদের গত ১২ বছর ধরে চলা অবর্ণনীয় দুর্ভোগের অবসান হবে। এতে গাজীপুরের শিববাড়ি থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত যেতে সময় লাগবে ৪৪ মিনিট। কোম্পানির নিজস্ব ১৩৭টি নতুন ডিজেলচালিত এসি বাস এই রুটে চলাচল করবে।
বুধবার (২৭ মার্চ) বিকেলে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক গণশুনানিতে এসব তথ্য জানান বিআরটি প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গণশুনানিতে জানানো হয়, গাজীপুর শহরের শিববাড়ি থেকে ঢাকা বিমান বন্দর পর্যন্ত ২০.৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ বাসে যেতে সময় লাগবে ৪৪ মিনিট। কোম্পানির নিজস্ব ১৩৭টি নতুন ডিজেলচালিত এসি বাস চলাচল করবে। প্রকল্পের শিববাড়ি ও বিমানবন্দরে দুটি বাস টার্মিনাল, আটটি ফ্লাইওভার, ২৫টি বাস স্টপেজ, ১৫টি ফুট ওভারব্রিজ, ফুটপাত ৩২ কিলোমিটার, উভয় পাশের ড্রেন ৫৫ কিলোমিটার এবং মাটি থেকে নিয়ম অনুযায়ী উচ্চতা থাকবে ৮.৫ মিটার। বাস চলাচলের সময় কোথাও জ্যাম থাকবে না এবং যথারীতি ৪৪ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছার নিশ্চয়তা থাকবে।

এ সময় সাবেক মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমসহ কয়েকজন সাংবাদিক প্রকল্পের ধীরগতি ও দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রকল্পের কয়েকবার ব্যয় বৃদ্ধি ও ত্রুটি-বিচ্যুতির সমালোচনা করে জনদুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রকল্পের শেষপর্যায়ে এসে না করে প্রথমে গণশুনানি করলে যেসব ত্রুটি ধরা হয়েছে, সেগুলো এড়ানো সম্ভব হতো বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এই প্রকল্পে নানা অসঙ্গতি ও ত্রুটি রেখে দেশের অর্থের ও সময়ের অপচয়ের দায়ে বিআরটি প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট ডিজাইনার ও প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও গ্রেপ্তারের দাবি করছি। যদি পাঁচ হাজার টাকা চুরি করে, তার জন্য যদি কোর্টে হাজিরা দিতে হয়, তবে যারা হাজার হাজার কোটি টাকা নষ্ট করল, লাখো মানুষের ক্ষতি ও ভোগান্তি করল, তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না?”
উল্লেখ্য, “নগরে ছন্দময় পথচলা” স্লোগান নিয়ে বিআরটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বিআরটি লেনের কার্যক্রম শুরু করে। দীর্ঘমেয়াদি পরিবহন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সমন্বয় সাধনের জন্য ২০০৫ সালে স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান প্রণয়ন করে তা ২০১৫ সালে রিভাইজ করা হয়। যার আওতায় বিআরটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় পাঁচ একর জমিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বাস ডিপো নির্মাণ করা হয়েছে। এর করিডোরের দুপাশে ৩৪ কিলোমিটার ফিডার রোড নির্মাণ করা হয়েছে। এর দুপাশে ২৪.৪২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের নয়টি ফ্লাইওভারের মধ্যে ২৪ মার্চ সাতটি খুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৩২ কিলোমিটার ফুটপাতের ৪০% সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের কাজটি শেষের দিকে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই চালু হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা।
বিআরটি প্রকল্পের সুবিধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে নিজস্ব বিআরটি লেন, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, যানজটমুক্ত পরিবহন ব্যবস্থা, অটোমেটিক টিকেটিং সিস্টেম, ২০.৫ কিলোমিটার রাস্তায় ২৫টি স্টেশন, গাজীপুর থেকে এয়ারপোর্ট ৩৫-৪০ মিনিটে পৌঁছে যাবে। এছাড়াও ৩০ সেকেন্ড পরপর স্ট্যান্ডার্ড এসি বাস চলবে, বিআরটি লেনে অন্য কোনো পরিবহন চলবে না, লেনের উভয় পাশে ব্যারিকেড দেওয়া থাকবে।
গণশুনানিতে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) এ কে এম শামীম আক্তার। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিআরটি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মনিরুজ্জামান, গাজীপুর সিটির সাবেক মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, বিআরটির প্রকল্প পরিচালক ইলিয়াস আহমদ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) আলমগীর হোসেন।
গণশুনানিতে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন গাজীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান টিটু, সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মুকুল কুমার মল্লিক প্রমুখ।



