জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক সুজন হত্যা মামলার রিমান্ড শুনানিতে এ কথা জানিয়েছেন হাসানুল হক ইনুর আইনজীবী মোহাম্মদ সেলিম।
আদালতে তার আইনজীবী জানান, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১৫ জুলাই ইনু ছাত্রদের আন্দোলন মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ১০ শতাংশ কোটা রেখে ছাত্রদের প্রস্তাব মেনে নিতে বলেছিলেন তিনি। ”
বিকাল পৌনে ৪টার ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় ইনুকে সাত দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে তাকে আরেকটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোসহ ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সবুজ রহমান।
ইনুর আইনজীবী মোহাম্মদ সেলিম রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তিনি বলেন, “ছাত্রদের আন্দোলন সমর্থন করেছেন হাসানুল হক হনু। শেখ হাসিনাকে ১৫ জুলাই বলেছিলেন, ছাত্রদের আন্দোলন যৌক্তিক। ১০ শতাংশ কোটা রেখে ছাত্রদের প্রস্তাব মেনে নিতে অনুরোধ করেছিলেন। এসময় আইনজীবীরা চিৎকার শুরু করেন।”
ইনুর আইনজীবী আরও বলেন, “এজাহারে ওনার নাম নেই। কিছু বলেননি। ৭ দিনের রিমান্ডে ছিলেন। ১৯৮৮ সালে ওপেন হার্ট সার্জারি করেছেন, অসুস্থ।”
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমানের আদালত তার ৫ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে ২৫ আগস্ট বিকালে উত্তরার একটি বাসা থেকে ইনুকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশের একটি টিম। ২৬ আগস্ট রাজধানীর নিউমার্কেটে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তার ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
গত ২০ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মোহাম্মদপুর থানার বেড়িবাঁধ এলাকায় গাড়ি পার্কিং করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ট্রাকচালক সুজন। ওই ঘটনায় তার ভাই রফিকুল ইসলাম হত্যা মামলা দায়ের করেন।



