Saturday, June 20, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কক্সবাজার সৈকতে নারীদের মারধর, ‘সমন্বয়ক’ পরিচয় দেওয়া ফারুকুল কারাগারে

ওই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে সমালোচনা ঝড় ওঠে

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৬:৩১ পিএম

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে নারীদের হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় মাদ্রাসাছাত্র ফারুকুল ইসলামকে (২২) ভুক্তভোগী এক নারীর করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মারধরের সময় ফারুকুল নিজেকে ছাত্র আন্দোলেনের সমন্বয়ক হিসেবে পরিচয় দেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন ওই নারী।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটা এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

এরপর শনিবার দুপুরে কক্সবাজার সদর থানায় ভুক্তভোগী এক নারী বাদী হয়ে মামলা করেন। এতে পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিযুক্ত ফারুকুল ইসলাম (২২) ও নয়ন রুদ্র নামের দুই জনসহ অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর পুলিশের হেফাজতে থাকা ফারুকুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, “বুধবার রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ঘুরতে গেলে ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক দাবি করে ফারুকুল ইসলামসহ একদল তরুণ তাকে ঘিরে ধরে। তারা জানতে চায়, রাতে সমুদ্রসৈকতে সাধারণ মানুষকে কেন হয়রানি করি, গালাগাল করি। একপর্যায়ে আমাকে ও সঙ্গে থাকা ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা আমার সহপাঠীকে লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি বেধড়ক মারধর করে। পরে টানাহেঁচড়া করে কাপড়-চোপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং শ্লীলতাহানি করে। এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে ১২ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে যায়। একইসঙ্গে এই ঘটনায় মামলা করতে গেলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।”

এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে কয়েকজন তরুণ কর্তৃক নারীকে প্রকাশ্যে হেনস্তা, অবমাননা ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা গতকাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জেলা পুলিশের দৃষ্টিগোচর হয়। ঘটনাটির গুরুতর ও স্পর্শকাতর বিবেচনায় পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল তাৎক্ষণিক মূল অভিযুক্ত ফারুকুল ইসলামকে শনাক্ত করে ওইদিন রাতে আটক করে। পরে ভিকটিম ফারুকুল ইসলাম ও নয়ন রুদ্রসহ (এজাহার নামীয়) ৫-৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে সদর থানায় মামলা করা হয়। পরে আসামি ফারুকুলকে আদালতে পাঠানো হয়।”

ফারুকুল চট্টগ্রাম জেলার লোহাগড়া উপজেলার চুনতি বড় হাতিয়া এলাকার বাসিন্দা। তবে বর্তমানে তিনি কক্সবাজারের বাহারছড়া এলাকায় বসবাস করেন।

এর আগে, শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, রাতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে এক নারীকে কান ধরিয়ে ওঠবস করাচ্ছে একদল অতিউৎসাহী জনতা। তাদের তোপের মুখে পড়া ওই ভুক্তভোগী নারী কানে হাত দিয়ে ওঠবস করতে অপারগতা প্রকাশ করছেন। কিন্তু, সেখানে উপস্থিত এক তরুণ লাঠি দিয়ে ওই নারীকে একাধিকবার আঘাত করেন। সেই লাঠির আঘাত থেকে রক্ষা পেতে ভুক্তভোগী নারী কান ধরে ওঠবস করছেন। শুধু তাই নয়, পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জনতা ওই নারীর কান ধরে ওঠবসের গণনাও করছিলেন।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী বিচে বসে আছেন। কয়েকজন সেখানে হাজির হয়ে জানতে চান- “এখানে কী করেন, মহিলা (নারী) মানুষ রাত ১২টায় এখানে কেন?” বলতে বলতে মারার ভঙ্গি করলে পেছন থেকে আরেকজন বলে ওঠে- “ক্যালানি দিতে দিতে আসতেছি, বুঝতে পারছেন? ক্যালানি খাবেন? চলে যান চলে যান।” আরেকজন বলেন, “পুরা বিচের পরিবেশ এরা (এই নারীরা) নষ্ট করে ফেললো।”

   

About

Popular Links

x