অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, গত ১২ বছর ধরে তার ব্যক্তিগত গাড়িতে হর্ন বাজানো হয় না।
তিনি বলেন, “১২ বছর ধরে আমার গাড়িতে আমি হর্ন বাজাই না। বগুড়া থেকে ঢাকায় এসেছি হর্ন না বাজিয়ে। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছি হর্ন না বাজিয়ে। এটা সম্ভব। হর্ন বাজাইনি বলে কোনো মিটিংয়ে দেরি হয়েছে এমন কখনো হয়নি।”
রিজওয়ানা হাসান বলেন, “চালককে বলবেন চিন্তা করতে; কখনো কখনো দেখবেন গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন, হর্ন কাজ করছে না, নষ্ট হয়েছে। তখন কীভাবে গাড়ি চালিয়ে গন্তব্যে যাই? বলবেন, সেভাবে গাড়ি চালাতে। এটা হচ্ছে অভ্যাসগত পরিবর্তন।”
সোমবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন আ্যান্ড টেকনলোজি অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
সেখানে “শহিদ সেলিম বিইউএফটি জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৪” এর গ্র্যান্ড ফিনালে এবং পুরুষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দেন উপদেষ্টা।
প্রতিযোগিতায় ৩২ টি কলেজ ও ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা অংশ নেন। দুই বিভাগে ছয়টি বিজয়ী প্রতিষ্ঠানকে পুরষ্কার তুলে দিতে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমাদের অনেক কাজে আপনাদের লাগবে। এক হচ্ছে- পলিথিন, প্লাস্টিকের কাজে আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়েই আমাদের কাজটা শুরু করেছিলাম উদ্বুদ্ধকরণে। এখন মায়ের প্লাসেন্টাতে, মায়ের বুকের দুধে মাইক্রো প্লাস্টিক পাওয়া যায়, তারপরও তো একবার ব্যবহার যোগ্য প্লাস্টিকের পক্ষে কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। আপনাদের প্রজন্ম সেই ঝুঁকিতে আছে, যে ঝুঁকি আমরা আপনাদের জন্য সৃষ্টি করে গেছি। আপনারা আবার আপনাদের পরবর্তী প্রজন্মকে এই ঝুঁকি পাস (হস্তান্তর) করবেন না। এই ঝুঁকি কমিয়ে দিয়ে যাবেন।”
তিনি বলেন, “অবশ্যই একবার ব্যবহার যোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে প্রচারণায় সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে। মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে। আপনারা যখন দোকানে যাবেন, দোকানদার পলিথিনে একটা কিছু দেওয়ার চেষ্টা করবে, কত মানুষকে আর পুলিশ ধরবে, সেটা তো সম্ভব না। দোকানদারকে বলবেন, এই প্লাস্টিকের ব্যাগটা আমি নেব না। আমি বাসা থেকে একটা কাপড়ের ব্যাগ বা চটের ব্যাগ নিয়ে আসছি, এটার মধ্যে আপনি দেন।”
উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমরা আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে ঢাকা শহরের দশটি রাস্তাকে নীরব এলাকা ঘোষণা করব। যেভাবে এয়ারপোর্ট সড়ককে করেছিলাম। সেখানে হর্ন যাতে না বাজানো হয়, সেটির একটা কাজ করব। আমাদের আইনটা একটু সংশোধন করতে হবে। যাতে পুলিশ এটা প্রয়োগ করতে পারে।”
রিজওয়ানা হাসান বলেন, “বিদেশ থেকে আপনি যখন ঢাকা শহরে আসেন, এরপর যে আওয়াজ আপনার কানে আসে, পৃথিবীতে কোনো দেশে এই আওয়াজ মানুষের কানে যায় না। এরকম আওয়াজ কানে আসতো, নেপালে যখন আমরা এয়ারপোর্ট থেকে বের হতাম। এবার আমি চার দিন নেপালে থেকে এসেছি। একটাও হর্নের আওয়াজ আমি পাইনি।”
নেপালে পরিবর্তনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “তারা ছোট একটা আইন পরিবর্তন করেছে এবং সেটা মেনে চলেছে।”
তিনি আরও বলেন, “অনেকে রিকশার কারণে হর্ন এমন যুক্তি দেয়। কিন্তু এয়ারপোর্ট বা সংসদের সামনের রাস্তায় রিকশা নেই, সেখানেও হর্ন বাজায়। এটা আসলে অভ্যাসগত বিষয়।”
অযথা হর্ন না বাজানোর বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হবে বলেও জানান উপদেষ্টা।



