রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগকে বাংলাদেশের সর্বনাশের অন্যতম কারণ বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, “আমরা সারাক্ষণ শুধু নিম্ন আদালতের স্বাধীনতার কথা বলে চিৎকার করি। নিম্ন আদালতের স্বাধীনতার বলতে আমরা বুঝি যে- উচ্চ আদালতের কাছে তার জবাবদিহিতা থাকবে, এটাই তো? কিন্তু উচ্চ আদালতই যদি হয় রাজনৈতিক দলের প্রতি সবচেয়ে লয়াল, দলবাজ- তাহলে নিম্ন আদালতের স্বাধীনতা দিয়ে আপনি কী করবেন?”
তিনি বলেন, “নিয়োগের সঙ্গে যদি ‘জয় বাংলা’ বা ‘জিন্দাবাদ’ করা লোক আসবে- এটা যদি নিশ্চিত হয়ে যায়, তখন তো আর উচ্চ আদালতে কাছে আপনি কিছু আশা করতে পারবেন না।”
আসিফ নজরুল বলেন, “আমি আমাদের সংস্কার কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছি, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি। উনি বলেছেন, ‘যেসব বিষয়ে ইতোমধ্যে জাতীয় ঐক্য আছে, তা করে ফেলো’। তারপরও সংস্কার কমিশন বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের অনুমতি নিয়ে আমরা কিছু সংস্কার করছি।”
তিনি বলেন, “উচ্চ আদালতে তিনটা বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিটি করে দিয়েছেন, যেখানে প্রধান বিচারপতি উনার অফিসের মাধ্যমে, আবার ১/১১ একটা ড্রাফট করে দিয়েছিল। এবং আমরা নিজেরা আইন মন্ত্রণালয়ের বড় কনসালটেন্সির মাধ্যমে একটা আইন করছি। এই শনিবার ইচ্ছা আছে যে বিভিন্ন আইনবিদ, রাজনৈতিক দলের মধ্যে আইনবিদ আছেন- আমরা একটা ব্রড বেইজ কনসালটেন্সি করব। আমরা এটা করে যদি ৩০-৪০ জন ভালো বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে যাই উচ্চ আদালতে, অন্তত মানুষ তো ২০-২৫ বছর ভালো বিচারপতি পাবে।”
আইন উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশের এমন একটা অবস্থান যে- দলবাজ না হলে অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ সম্ভব না। আমরা এর জন্য একটা স্থায়ী প্রসিকিউশন সার্ভিস…এটা ছয় মাস লাগবে।”
বছরখানেক সময় পেলে সংস্কার কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারবেন জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, “ইচ্ছা আছে, বছর খানেক সময় পেলে এই কাজগুলো করে যাব। তারপরও পলিটিক্যাল পার্টির ওনারশিপের একটা ব্যাপার আছে, পরের সরকার এসে এগুলো বাতিল করে দিতে পারে। আমার মনে হয় আমাদের ঐকমত্য যত শক্ত থাকবে, পরবর্তী সরকার সেটা বাতিল করতে তত কঠিন হবে, অসম্ভব হবে।”



