Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পরকীয়ার অভিযোগে তরুণ-তরুণীকে ৬ ঘণ্টা আমগাছে বেঁধে রাখলেন এলাকাবাসী

তবে আটক তরুণ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৫, ১১:০৫ পিএম

রাজশাহীর দুর্গাপুরে পরকীয়ার অভিযোগে এক প্রেমিক যুগলকে আটক করে আমগাছের সঙ্গে বেধে রাখেন এলাকাবাসী। দুপুর থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তারা আমগাছের সঙ্গেই বাঁধা ছিল। এতে পাহারা দিচ্ছিলেন গ্রাম্যপুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী। তবে আটক তরুণ-তরুণী পরকীয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।

বুধবার (৯ এপ্রিল) বেলা ১২টার সময় উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের নান্দিগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে এ ঘটনায় তাদের বেধে রাখলেও তাদের মারধর করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আতিকুর রহমান নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, তাদের দুজনের আগে থেকে প্রেমের সর্ম্পক ছিল। একই জায়গায় তাদের বাড়ি। বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তিনি বিল থেকে বাড়িত আসার সময় আটক তরুণের বাড়িতে অশালীন কর্থাবার্তার আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। তিনি জানালা খুলে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাদের ঘরেই আটক করেন তারা।

এ সময় আটককৃত ওই ব্যক্তি জানান, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোর করে আটক করে। তাকে ফাঁসানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, তিনি দুপুর বেলা বিলে পটলের খেত থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় ওই তরুণ বাড়ির কাছে আসলে তাকে ২ হাজার টাকার লোভ দেখিয়ে কু প্রস্তাব দেয়। পরে তার ডাকে সাড়া দিয়ে ঘরে গেলে স্থানীয়রা তাদের আটক করেন।

বুধবার বিকেল ৫টার সময় ঘটনাস্থলে আটককৃতদের পাহারা দিতে দেখা যায় গ্রাম্যপুলিশ সাইফুল ইসলামকে। তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের নিদের্শে তাদের পাহারায় নিয়োজত আছেন তিনি। চেয়ারম্যান ও গ্রাম্যমাতব্বর এলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টা মিটিয়ে ফেলা হতে পারে বলে জানান।

এ বিষয়ে নান্দিগ্রামের গ্রাম্যমাতবর আবু সাইদ বলেন, “আমি পার্শ্ববতী একটি বাজারে ব্যবসা করি। সেখানে দোকান আছে আমার। আমি এখনও দোকান বন্ধ রেখে ঘটনাস্থলে যাইতে পারিনি। এলাকাবাসী আমাকে বারবার কল দিচ্ছেন। আমি দোকান বন্ধ করে যাইতে পারতেছি না। তাদের বলে দিয়েছি, তোমরা আইনের হাতে তুলে দাও। তারা আমার কথা শুনছেন না। আমার যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। বিষয়টা স্থানীয়ভাবে সমাধান করবেন বলে। আমি তাদের না করে দিয়েছি। এরপরও কথা না শোনায়, এখন বিকেল ৬টা বাজে আমি দোকান বন্ধ রেখে সেখানে যাচ্ছি।”

ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদার বলেন, “খবর পেয়ে আমি ওখানে গ্রাম্যপুলিশ পাঠিয়েছি। আমি ঘটনাস্থলে যাইনি। কারণ ধর্ষণের ঘটনার বিচার বা ফয়সালা করার অধিকার আমার নাই। আমি তাদের থানা পুলিশে খবর দিতে বলেছি।”

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরল হুদা বলেন, “বিষয়টা শুনেছি। এলাকাবাসী থেকে জানানো হয়েছে, তারা পরস্পর বিয়ে করবে। কোনো অভিযোগ পাইনি। যেহেতু তারা বিয়ে করতে চায়, তাহলে আমাদের কিছু করার নাই।”

দুপুর থেকে আমগাছের সঙ্গে তাদের বেঁধে রাখা হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, “তাদের কারা বেঁধে রেখেছে এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে তাদের বেঁধে রাখা যাবে না। আমি দ্রুত বিষয়টা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

   

About

Popular Links

x