রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা “বি” ইউনিটের (বাণিজ্য) পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে।
শনিবার (১২ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে এই ভর্তি পরীক্ষা চলবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। ভর্তি পরীক্ষায় পাঁচটি আঞ্চলিক কেন্দ্র মিলিয়ে মোট ৪২,৪৪৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে।
শুক্রবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে ভর্তি পরীক্ষা বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সালেহ্ হাসান নকীব।
লিখিত বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “১২, ১৯ ও ২৬ এপ্রিল যথাক্রমে বি, এ এবং সি ইউনিটের ভর্তি-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কথা বিবেচনা করে এবার প্রথমবারের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রংপুরে আঞ্চলিক কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, “এবছর এ, বি, সি এই তিনটি ইউনিটে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। এ বছর মোট আসন সংখ্যা ৪,৩২৩টি। রাবি ছাড়াও ঢাবি ও জবি, চবি, খুবি এবং বেরোবিসহ রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও দ্যা মিলেনিয়াম স্টারস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।”
উপাচার্য আরও বলেন, “তিন ইউনিট মিলে রাবি কেন্দ্রে ৭২ হাজার ৩৫ জন; ঢাবি কেন্দ্রে ৮২ হাজার ৭৪১ জন; জবি কেন্দ্রে ১০ হাজার জন; বেরোবিসহ সন্নিহিত অন্য দুইাট ভেন্যুতে ৩৫ হাজার ৬৩০ জন; খুবি কেন্দ্রে ২৩ হাজার ১৮ জন এবং চবি কেন্দ্রে ১৩ হাজার ৯৯১ জন পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে। এবার এক ঘণ্টাব্যাপী ভর্তি পরীক্ষা এমসিকিউ পদ্ধতিতে গ্রহণ করা হবে। পরীক্ষা চলাকালে কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কক্ষের বাইরে যেতে পারবে না। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করতে হবে।”
ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি বিষয়ে রাবি উপাচার্য বলেন, “আমাদের ভর্তি প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ। এখানে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা কারসাজির সুযোগ নেই। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, কখনও কখনও অসাধুচক্র ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী কিংবা তাদের অভিভাবকের নিকট থেকে ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নিয়ে থাকে। তারা কখনও কখনও শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় কাগজপত্র জমাও রাখে এবং রেজাল্ট শিটে নাম দেখেই অর্থ দাবি করে। প্রকৃতপক্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ নিজ যোগ্যতায় ভর্তির সুযোগ পেয়েও প্রতারণার শিকার হয়। সংশ্লিষ্ট সকলকে এমন প্রতারকচক্রের খপ্পরে না পড়ার জন্য সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিচ্ছি। এ ধরনের কোনো কিছুর আভাস-ইঙ্গিত পেলে তা যথা শিগগিরই সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাতেও পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে।”
ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার বলেন, “১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষার ফলাফল ১৯ এপ্রিল পরীক্ষার আগেই প্রকাশিত হবে। একইভাবে ১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষার ফলাফল ২৬ এপ্রিল পরীক্ষার আগেই প্রকাশিত হবে। সর্বশেষ ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষার ফলাফল পূর্বের ইউনিটগুলোর সময়সীমা অনুযায়ী প্রকাশিত হবে। ফল প্রকাশ শেষে ভর্তি কার্যক্রম চলবে আগামী ১১ মে থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত। স্নাতক প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হবে ১ জুলাই থেকে।”
এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভর্তি ফর্ম বিক্রি করে আয় হয়েছে প্রায় ৩১ কোটি টাকা। ২৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে দুই ধাপে তিনটি ইউনিটে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ ফর্ম বিক্রি করা হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে আবেদন প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে ৪ লাখ ৪১ হাজার ৯৭২ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। চূড়ান্ত পর্যায়ে তিনটি ইউনিটে মোট আবেদন জমা পড়ে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৪১৫টি। এর মধ্যে “এ” ইউনিটে ৯৬ হাজার ১৬২টি, “বি” ইউনিটে ৪২ হাজার ৪৩৩টি এবং “সি” ইউনিটে জমা পড়ে ৯৮ হাজার ৮২০টি আবেদন।
চূড়ান্ত আবেদনে তিনটি ইউনিট থেকে ১০% সার্ভিস চার্জসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট আয় হয়েছে ৩০ কোটি ৪০ লাখ ৫২ হাজার ৫৪০ টাকা।
ফলে, প্রাথমিক ও চূড়ান্ত—দুই ধাপে আবেদন ফরম বিক্রি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় হয়েছে ৩০ কোটি ৯৫ লাখ ১৯ হাজার ৫৪০ টাকা।
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথমবর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় অনলাইন পদ্ধতিতে আবেদনের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের ৬০% সংশ্লিষ্ট ইউনিট গ্রহণ করবে ও অবশিষ্ট ৪০% অর্থ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফান্ডে জমা হবে। ৬০% অর্থের মধ্য থেকে ৫% অর্থ ইউনিটভুক্ত ডিন ও ইনস্টিটিউট অফিস এবং ১০% অর্থ ইউনিটভুক্ত বিভাগসমূহের উন্নয়নের জন্য রেখে বাকি অর্থ প্রতিটি ইউনিট ভর্তি পরীক্ষাসহ ভর্তি-সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যয় সম্পন্ন করবে।
ভর্তি পরীক্ষার ফি থেকে প্রাপ্ত অর্থের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, “ফি থেকে প্রাপ্ত অর্থ বণ্টনের ক্ষেত্রে পুরোপুরি স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। এ বছর ভর্তি পরীক্ষা ডিসেন্ট্রালাইজড হওয়ায় বিগত ভর্তি পরীক্ষাগুলোর তুলনায় খরচের পরিমাণটাও অনেকাংশে বেড়ে গেছে।”



