রাজধানী ঢাকার রাস্তায় চলাচলের জন্য রিকশার একটি নকশা তৈরি করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের একটি দল। তারা বলছে, এই নকশার রিকশা হবে সাধারণ রিকশার চেয়ে অনেক নিরাপদ।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এই রিকশার অনুমোদন দেবে। এই রিকশার জন্য চালকদের লাইসেন্সও দেওয়া হবে। এজন্য প্রচলিত স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ সংশোধন করা হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত একটি খসড়া শিগগিরই উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তোলা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো।
বুয়েট উদ্ভাবিত নতুন নকশার এই ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ৩০০ জন মাস্টার ট্রেইনার থাকবেন বলে জানিয়েছে প্রথম আলো।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে “মাস্টার ট্রেইনার” করা হবে। সেখানে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের প্রতিনিধিও থাকবেন।
এদিকে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, তারা নতুন নকশা বা মডেলের রিকশা ঢাকার রাস্তায় চলাচলের অনুমতি দেবে। পুরোনো রিকশা পর্যায়ক্রমে সড়ক থেকে তুলে নেওয়া হবে।
এখন সড়কে যে রকম ব্যাটারিচালিত রিকশা চলছে, সেগুলো ধীরে ধীরে তুলে দেওয়া হবে। নতুন মডেলের রিকশা বানানোর জন্য চালকদের একবছর সময় দেওয়া হবে। এ জন্য তাদের বাংলাদেশ ব্যাংক ও মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটি (এমআরএ) ঋণ দেবে।
উল্লেখ্য, ঢাকায় এখন দুই ধরনের রিকশা চলে—পায়ে চালিত বা প্যাডেল ও ব্যাটারিচালিত। সাম্প্রতিককালে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
বুয়েটের দলটি বলছে, তাদের নকশা করা ব্যাটারিচালিত নতুন রিকশা মূলত রাস্তায় চলাচলকারী ইজিবাইকের মতো। রিকশায় ১৬টি বৈশিষ্ট্য যোগ করেছেন। সেই সঙ্গে তারা এখন দেশে প্রচলিত ১২ ধরনের ব্যাটারিচালিত রিকশার নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করেছেন। অবশ্য এটি তৈরিতে বর্তমান ব্যাটারিচালিত রিকশার সমান খরচ পড়বে।



