Tuesday, July 07, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নগর ভবনে ইশরাক সমর্থকদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ

ইশরাক ‘বিরোধী’ সন্দেহে নগর ভবনের এক কম্পিউটার অপারেটরকে মারধরের অভিযোগ

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৫, ০৫:১১ পিএম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের যে পক্ষটি বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের ‘‘বিরোধী’’, তাদের লোক সন্দেহে মারধরের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ডিএসসিসির প্রধান কার্যালয় নগর ভবনে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করার কারণে একজন সাংবাদিককে ছুরি দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্মচারীর বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জাতীয়তবাদী শ্রমিক ইউনিয়নের একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন আরিফুজ্জামান প্রিন্স। তাকে ইশরাকের বিরোধীপক্ষ মনে করা হচ্ছে। তিনি আজ তার পক্ষের কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে নগর ভবনে আসেন। এ সময় আরেকটি পক্ষের নেতৃত্বে থাকা আরিফ চৌধুরীর অনুসারীদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে তাদের নাম জানা যায়নি।

এ ঘটনায় আরিফুজ্জামান সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, “ইশরাক নগর ভবন চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই ঘোষণার পরও বহিরাগত কিছু লোক প্রতিদিন নগর ভবনে মহড়া দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি করে আসছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে নিরাপদে অফিস করতে পারেন, সে জন্য তারা সব কর্মচারীরা একত্রিত হয়ে নগর ভবনে মিছিল শুরু করেন। এর পরপরই তাদের ওপর এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়।”

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আরিফ চৌধুরী সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, “অন্যান্য দিনের মতো আজও তারা শান্তিপূর্ণভাবে নগর ভবনে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু বহিরাগতরা নগর ভবনে এসে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের ৫ জনকে গুরুতর আহত করেছেন।”

এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর থেকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে ইশরাকের সমর্থকেরা এসে নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিতে থাকেন। পরে দুপুর দেড়টার দিকে আরিফুজ্জামানের অনুসারী সন্দেহে সিটি কর্পোরেশনের শেখ মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম নামের এক কম্পিউটার অপারেটরকে মারধরের ঘটনা ঘটে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ইশরাকের অনুসারীরা তৌহিদুলকে বেধড়ক মারধর করেন। এ সময় পুলিশ এসে তৌহিদুলকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ইশরাকের সমর্থকেরা তাকে হস্তান্তর করতে চাইছিল না।

এ ঘটনার পর নগর ভবনে আগত আরেক ব্যক্তিকেও আরিফুজ্জামানের অনুসারী সন্দেহে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ এই দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এদিকে মারধরের ভিডিও ও ছবি তোলার সময় সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন ইশরাকের সমর্থকরা। নাগরিক টেলিভিশনের প্রতিবেদক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শিশিরের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে জোরপূর্বক সব ছবি ও ভিডিও ডিলিট করে দেন তারা। এ সময় তাকে হেনস্তা ও হুমকি দিতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে নাগরিক টেলিভিশনের প্রতিবেদক আসাদুজ্জামান সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় মারধরের ভিডিও করতে গেলে আমার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। সব ভিডিও ও ছবি ডিলিট করে দেওয়া হয়। ছুরি দেখিয়ে আমার জীবননাশেরও হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ভয়ে আর কোনো ভিডিও ও ছবি তুলিনি আমি।”

এসব ভিডিও ধারণ করার সময় এখন টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যানকেও বাধা দিতে দেখা গেছে। এছাড়াও এনটিভির প্রতিবেদককেও হেনস্তা করা হয়েছে অভিযোগ ওঠেছে। নগর ভবনে অবস্থানরত এনটিভির প্রতিবেদক নাজিবুর রহমান সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, “আমাকে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে।”

নগর ভবনের একাধিক কর্মচারীর বরাত দিয়ে প্রথম আলো আরও জানিয়েছে, যারা ইশরাকের আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন না, তাদের ‘‘বিরোধীপক্ষ’’ মনে করা হচ্ছে। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাদের নগর ভবনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। তাই আজ এই পক্ষের লোকজন আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে নগর ভবনে এলে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

   

About

Popular Links

x