Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দৃষ্টি হারালেও সাহস হারাননি আজাদ

ঝাপসা চোখে জীবন সংগ্রাম, খুঁজছেন আলোর দিশা

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৫, ০৬:১৫ পিএম

ক্ষীণ দৃষ্টিতে একের পর এক প্রতিকূলতা মোকাবিলায় স্বপ্নগুলো ঝাপসা হয়ে এলেও জীবন সংগ্রাম থামাননি তিনি।

বলছি লক্ষ্মীপুর জেলার এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা আজাদ হোসেনের কথা। চোখে দেখতে না পেলেও জীবনসংগ্রামের পথ তিনি খুঁজে নিচ্ছেন প্রতিনিয়ত, বারবার।

আজাদ হোসেন শৈশবেই হারিয়েছেন দৃষ্টিশক্তি। নানা প্রতিকূলতার মাঝে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। গত আট বছর ধরে অবিরাম চেষ্টা করছেন একটি চাকরির জন্য। তবে সেই স্বপ্ন তার দৃষ্টিশক্তির মতোই এখন কেবল ক্ষীণ হয়ে আসছে। আজ তিনি জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার একটি সুযোগ খুঁজছেন।

অভাবের ভেতর দিয়েই জীবনসংগ্রামের শুরু

আজাদ হোসেনের চোখের আলো জন্ম থেকেই নিভে যায়নি। শৈশবে এক শারীরিক অসুস্থতায় ভুল ওষুধ অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনের ফলে তার দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে তার দৃষ্টি একদম ক্ষীণ। তবে স্বপ্ন ছিল বড়—মানুষ হবেন, পরিবারকে এগিয়ে নেবেন।

পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে বড় আজাদ। পরিবারের আর্থিক সংকট সত্ত্বেও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। কঠিন সংগ্রামের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে। সেখান থেকে ২০১৬ সালে অনার্স এবং ২০১৭ সালে মাস্টার্স শেষ করেন।

ক্যান্সারে মা-বাবা দুজনকেই হারিয়েছেন, পরিবারে এখন অনিশ্চয়তা

২০১৫ সালে আজাদের মা ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। আজাদ তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। কিছু শিক্ষক ও সহপাঠীদের সহায়তায় সাময়িকভাবে চিকিৎসা চললেও ২০১৯ সালে মা মারা যান।

এরপর ২০১৮ সালে পরিবারে নেমে আসে আরেক দূর্যোগ। বাবার ক্যান্সার ধরা পড়ে। পরিবারের শেষ সম্বল বিক্রি করে, ঋণ নিয়ে চিকিৎসা চালানো হয় তার। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর বাবাও মারা যান। বর্তমানে আজাদ ঢাকায় থাকেন তার স্ত্রী, ছোট বোন এবং নিজের একমাত্র ছেলেকে নিয়ে। টেনেটুনে সংসার চললেও, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

দৃষ্টি হারালেও সাহস হারাননি

আজাদ বলেন, “আমি দৃষ্টি হারিয়েছি, কিন্তু সাহস হারাইনি। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে প্রতিটি দিন সংগ্রাম করেছি। সহপাঠীরা অনেক সহায়তা করেছে।” বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করার পরে কিছু কোর্স এবং জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকেও ট্রেনিংও গ্রহণ করেন তিনি।

মাস্টার্স শেষ করে একের পর এক চাকরির ইন্টারভিউ দিয়েছেন। বহুবার ভাইভায় ডাক পেলেও শেষ মুহূর্তে বাদ পড়েছেন। “অনেক জায়গায় আমি ভাইবা দিয়েছি, তারা প্রশংসাও করেছে। কিন্তু পরে তারা আর কিছু জানাননি,” বলেন তিনি।

এদিকে জীবনের কঠিন সংগ্রাম আর সংসারের টানাপোড়েনের মাঝেই শ্বশুরবাড়ির চাপ যেন মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কঠিন সময়ে পাশে পাচ্ছেন না শ্বশুর বাড়ির স্বজনদেরও।

আজাদ বলেন, “আমার স্ত্রী সবসময় পাশে ছিলেন। মাঝেমধ্যে আমরা না খেয়ে থাকি, সন্তান তো তা পারে না। এজন্য শ্বশুর-শাশুড়ি ডিভোর্সের জন্য চাপ দিচ্ছেন।

একটি চাকরি অথবা টেকসই উদ্যোগই হতে পারে বাঁচার পথ

এত সংগ্রাম, প্রতিকূলতার পরও আজাদের কণ্ঠে এখনো ভরসা আছে, কিন্তু কণ্ঠ কাঁপে। বলেন, “আমি চাই কেউ যদি একটা চাকরি দিতে পারেন, অথবা এমন কিছু সহায়তা করেন যাতে একটা উপযুক্ত ছোট ব্যবসা শুরু করতে পারি—তাহলে অন্তত সম্মান নিয়ে বাঁচতে পারি।”

তিনি মনে করেন, কমিউনিকেশন, কল সেন্টার, প্রতিবন্ধী সহায়তা কেন্দ্র, প্রশিক্ষণ, কিংবা শিক্ষকতার মতো কাজে তিনি সহজেই মানিয়ে নিতে পারবেন। আজাদ কারও করুণা চান না, তিনি চান কেবল একটি সুযোগ।

চোখে না দেখলেও স্বপ্ন যে দেখা যায়। আজাদ হোসেন প্রমাণ করেছেন - প্রতিবন্ধকতা মানেই থেমে যাওয়া নয়। সমাজ যদি একটু সহানুভূতি দেখায়, তাহলে এমন একজন মানুষ শুধু নিজেই ঘুরে দাঁড়াবেন না, হয়ে উঠতে পারেন অনেকের প্রেরণা।

আপনি যদি আজাদের পাশে দাঁড়াতে চান, সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন নিচের নম্বরে বা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সহায়তা পাঠাতে পারেন:
মো. আজাদ হোসেন (Md Azaad Hossain)
অগ্রণী ব্যাংক (জাবি শাখা)
অ্যাকাউন্ট নম্বর: 0200002722189
মোবাইল: 01711961657
   

About

Popular Links

x