কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় খোলাবাজারে খাদ্যশস্য বিক্রির (ওএমএস) পরিবেশক (ডিলার) নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় আহ্বায়কের নেতৃত্বে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। টানা দুই দিন ধরে ওই কর্মকর্তার কার্যালয়ে তালা ঝুলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকার সোমবার দুপুর ৩টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লালমাই উপজেলা শাখার আহ্বায়ক নোমান হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্র প্রতিনিধি ও যারা আবেদন করে পরিবেশক নিয়োগ পাননি, তারা প্রথমে উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের তালা ভেঙে ফেলেন। এরপর সেখানে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন। এ ঘটনার পর থেকে নিয়োগ পাওয়া পরিবেশকদের সমর্থক, বঞ্চিত পরিবেশকদের সমর্থক ও ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ পরিস্থির মধ্যেই কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের হস্তক্ষেপে তালা খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিমাদ্রী খীসা বলেন, “আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চাবি হস্তান্তর করায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরাবর চাবি পৌঁছাতে পারেনি। তবে বুধবার থেকে তারা যথারীতি অফিস করবেন। তবে তারা কী কারণে এমন ঘটনা ঘটালেন তা জানতে পারিনি। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে যে তদন্ত কমিটি হবে- তারা তদন্ত করলেই মূল বিষয়টি বের হয়ে আসবে।”
তিনি আরও বলেন, “নিয়মের মধ্য দিয়েই নিয়োগ দেওয়া হলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা খাদ্যনিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। খাদ্য অফিসের তালা ভেঙে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন এবং জেলা প্রশাসকসহ আমার কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কোনো অনিয়ম হলে আমরা সেটি তদন্ত করে দেখব। কিন্তু এভাবে তালা ভেঙে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই উচিত হয়নি।”
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লালমাই উপজেলা শাখার আহ্বায়ক নোমান হোসেন নিজেও উপজেলার বাগমারা (দক্ষিণ) ইউনিয়নে ওএমএস ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেতে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তিনি বাদ পড়েছেন।
নোমান হোসেন বলেন, “খাদ্যনিয়ন্ত্রকের নির্দেশনা মেনে আমি সব কাগজপত্র জমা দিয়েছি। আমাকে কিছু না জানিয়ে এক ওষুধের দোকানদারকে অনিয়মের মাধ্যমে লটারি ছাড়াই আমাদের ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই দিন উপজেলার অন্য দুটি ইউনিয়নেও ডিলার নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে। উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক রাজিব কুমার দে নীতিমালা না মেনে ও অনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে এই কাজ করেছেন।”
তবে পুরোপুরি নিয়ম মেনেই পরিবেশক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন লালমাই উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক রাজিব কুমার দে। তিনি বলেন, “এখানে কোনো প্রকার অনিয়ম হয়নি, নিয়ম মেনেই ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এরপরও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা আমাদের দপ্তরে তালা ভেঙে নতুন তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি ইউএনওসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাদের এসব অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন।”



