Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বুয়েট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এমন ভয়ঙ্কর মামলা’

‘মামলায় তাদের কাছ থেকে জব্দ করা মালামাল হিসেবে যে প্রসঙ্গ অবতারণা করা হয়েছে, এটি অত্যন্ত হাস্যকর এবং পরিষ্কারভাবে বানোয়াট’

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৩, ১১:১৫ পিএম

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওড়ে বেড়াতে গিয়ে “রাষ্ট্রদ্রোহী পরিকল্পনার” অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন তাদের অভিভাবকরা। তারা বলছেন, “আমাদের সন্তানরা কোনো ধরনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

মঙ্গলবার (১ আগস্ট) বুয়েটের শহীদ মিনারের সামনে সন্তান-স্বজনদের মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে গ্রেপ্তার ওই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আলী আম্মার মোয়াজের বড় ভাই আলী আহসান জুনায়েদ।

লিখিত বক্তব্য পাঠকালে তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার প্রতি তাদের ঝোঁক ছিল। রাজনীতিসহ এ জাতীয় কোনো কাজের সঙ্গে কখনোই তাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল না। উপরন্তু, বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ। আমরা সর্বদাই তাদের এ ব্যাপারে সাবধান করেছি। তারাও রাজনীতিমুক্ত হিসেবেই ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলছি, তারা সাধারণ শিক্ষার্থী মাত্র। কোন ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে এমন ভয়ঙ্কর মামলা সাজানো হলো, আমাদের বোধগম্য নয়।”

বুয়েট শিক্ষার্থীদের ভ্রমণ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের জানিয়েই তারা ২৯ জুলাই ক্যাম্পাসের বন্ধুদের সঙ্গে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওড়ে ঘুরতে যায়। সুনামগঞ্জ গিয়ে আরও বেশ কয়েকজন বুয়েট শিক্ষার্থীকে পেয়ে তারা আনন্দিত হয়। তারা সবাই একসঙ্গে ঘোরার কথা জানায়। ৩০ জুলাই সন্ধ্যার পর থেকে তাদেরকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। দীর্ঘক্ষণ তাদেরকে ফোনে না পেয়ে আমরা শঙ্কিত হয়ে পড়ি। প্রায় ৩ ঘণ্টা পর রাত ১০টার দিকে তারা আমাদের ফোন দিয়ে নিজেদের ও অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার জানাতে চায়। তারা জানায়, পুলিশ তাদেরকে হাওড়ে নৌকায় ভ্রমণের সময় জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে আটক করে তাহিরপুর থানায় নিয়ে এসেছে। পরিচয়পত্রের নাম্বার নেওয়ার পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে, বলে জানিয়েছে।”

“তারা ফোনে শুধু এতটুকুই বলতে পারে। কিন্তু এর বেশি আর কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এরপর আমরা খোঁজ নিতে স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পুলিশ সুপারকে (এসপি) বারবার ফোন করি, কিন্তু তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি। তাই, আমরা জানতেও পারছিলাম না কেন তাদের আটক করা হয়েছে। ৩১ জুলাই বিকালে সংবাদমাধ্যমে দেখতে পাই, তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। তারা নাকি নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনার জন্য হাওড়ে গিয়েছে। আমাদের সন্তানদের ব্যাপারে এমন অকল্পনীয় অভিযোগ শুনে আমরা যারপরনাই আশ্চর্য হই।”

তিনি আরও বলেন, “মামলায় তাদের কাছ থেকে জব্দ করা মালামাল হিসেবে যে প্রসঙ্গ অবতারণা করা হয়েছে, এটি অত্যন্ত হাস্যকর এবং পরিষ্কারভাবে বানোয়াট। তারা টার্ম-ব্রেকের ছুটিতে বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে ঘুরতে ওখানে গেছে। সঙ্গে সদ্য এসএসসি পাস করা কয়েকজন আত্মীয়কেও বেড়ানোর জন্য নিয়ে গেছে। পরে কোর্টে তোলার সময়ে আইনজীবীদেরকে তারা জানিয়েছে, জব্দ তালিকায় উল্লেখিত কাগজপত্র তাদের সামনেই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড দিয়ে প্রিন্ট করা হয়েছে মামলা সাজানোর জন্য।”

সকলের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, “আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি। আমরা দেশবাসীর কাছে আমাদের নিরপরাধ সন্তানদের পাশে থাকার জন্য সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।”

   

About

Popular Links

x