দেশের উদীয়মান আইটি ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন, স্টার্টআপ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা সম্প্রসারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে একাধিক কর ও শুল্ক সুবিধার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে কর কাঠামোয় স্বস্তিদায়ক পরিবর্তনের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বাজেট প্রস্তাবনা অনুযায়ী, নতুন ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপগুলোর জন্য ন্যূনতম টার্নওভার করের হার বিদ্যমান স্তর থেকে কমিয়ে ০.১ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে প্রাথমিক পর্যায়ের স্টার্টআপগুলো করের চাপ কম অনুভব করবে এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে আরও বেশি সুযোগ পাবে।
ডিজিটাল অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত আইটি ফ্রিল্যান্সিং এবং কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক আয় বা রেমিট্যান্সের ওপর কর অব্যাহতির সুবিধাও বহাল রাখা হচ্ছে। তবে এ সুবিধা পেতে করদাতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল এবং আয়ের তথ্য প্রদর্শন করতে হবে।
প্রযুক্তিনির্ভর সেবা খাতের বিকাশে সফটওয়্যার উন্নয়ন, ক্লাউড সার্ভিস, ডেটা সেন্টার, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) স্টার্টআপগুলোর জন্য কিছু আইটি হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট রেয়াতের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় আইটি শিল্পের সুরক্ষায় বিদেশি কিছু সফটওয়্যার সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক যৌক্তিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুধু কর ছাড় নয়, স্টার্টআপ ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী উদ্যোগকে সরাসরি সহায়তা দিতে সরকারি বিশেষ তহবিল থেকে অনুদান ও ইকুইটি সহায়তার বরাদ্দও বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ফ্রিল্যান্সারদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি জোরদার করতে স্মার্ট আইডি কার্ডের মাধ্যমে ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তি সহজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি প্রযুক্তিখাতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।



