Thursday, June 18, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ব্যাংক খাতে গত এক বছরে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা লোকসান

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম

২০২৫ সালের মুনাফা-লোকসানের হিসাবে ব্যাংক খাতের আর্থিক অবস্থার ব্যাপক অবনতির চিত্র উঠে এসেছে । কিছু বহুজাতিক ও বেসরকারি ব্যাংক বাদে কিছু দুর্বল ব্যাংকের বড় ক্ষতির কারণে পুরো খাত ১,৩৬,৬৬৬ কোটি টাকার লোকসানে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ১৪,২৩০ কোটি টাকা নিট মুনাফা ছিল। ২০২৩ সালে তা বেড়ে ১৪,৮৪০ কোটি টাকায় পৌঁছায়। যদিও ২০২৪ সালে  ১২,১৫৮ কোটি টাকায় নেমে আসে মুনাফা। পুরো খাত লোকসানে চলে যায় ২০২৫ সালে।

ব্যাংকগুলোর বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ১০টি ব্যাংক মিলিয়ে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা লোকসান করেছে। 

সবচেয়ে বেশি ৬৬ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। এরপর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের লোকসান ৩১ হাজার কোটি টাকা, এক্সিম ব্যাংকের ২৮ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের ৪ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংক, এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকও লোকসানে রয়েছে।

অন্যদিকে, বহুজাতিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক গত বছর ৩,২২০ কোটি টাকা নিট মুনাফা করে শীর্ষে রয়েছে। দেশীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক ২,২৫০ কোটি টাকা, সিটি ব্যাংক ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা এবং পূবালী ব্যাংক ১ হাজার ৯০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের প্রায় ৫৯% বর্তমানে ‘দুর্দশাগ্রস্ত’ বা ডিস্ট্রেসড ঋণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 
বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ব্যাংকিং নীতি প্রণয়নকারী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে ডিস্ট্রেসড ঋণের নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই। তবে সাধারণত যে ঋণ থেকে কোনো আয় আসে না বা নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করা হয় না, সেগুলোকে এই শ্রেণির ঋণ হিসেবে ধরা হয়। পুনঃ তফসিল করা ঋণের বিপরীতে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করা হয়, তাই এসব ঋণকে ডিস্ট্রেসড ঋণ হিসেবে ধরা হয় না।

গত বছর শেষে এ ধরনের ঋণ  দাঁড়ায় ১০ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকায়। এর ভেতর ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা পুনঃতফসিল করা ঋণ। এছাড়া, খেলাপি, অবলোপন করা এবং আদালতের আদেশে স্থগিত থাকা ঋণ বাকি অংশ।

২০০৪ ও ২০০৬ সালেও ব্যাংক সংস্কার কর্মসূচির সময় লোকসানে পড়ে পুরো খাত। এছাড়া ২০১২ সালে সোনালী ব্যাংকের হল-মার্ক কেলেঙ্কারির ফলে ব্যাংক খাতে  লোকসান হয়েছিল ১,০৯৫ কোটি টাকা।

 

   

About

Popular Links

x