Saturday, August 01, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফেসবুক-গুগলের মতো বিদেশি কোম্পানির বিজ্ঞাপনে নতুন নিয়ম

বিদেশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে নিবন্ধন ছাড়া ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে না

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন ছাড়া বিদেশি কোনো কোম্পানি ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে না - এমন বিধান রেখে ‘ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল বাণিজ্য নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশ করেছে সরকার।

অর্থাৎ, ফেসবুক, ইউটিউব ও গুগলের মতো বিদেশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে নিবন্ধন ছাড়া ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে না। একইসঙ্গে বাংলাদেশে বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), আয়কর এবং অন্যান্য প্রযোজ্য কর পরিশোধ করতে হবে।

শনিবার (২২ জুলাই) জনমত গ্রহণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে নীতিমালার খসড়া প্রকাশ করেছে।

খসড়া নীতিমালায় আন্তর্জাতিক ডিজিটাল লেনদেন নিরাপদ করতে ক্রস-বর্ডার এসক্রো পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে দেশের বিদ্যমান পেমেন্ট অবকাঠামোর সংযোগ, বিদেশি ডিজিটাল বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে রপ্তানি বাড়াতে বিশেষ নীতিসহায়তার কথাও বলা হয়েছে।

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিজ্ঞাপন প্রচারের আগে বিদেশি ডিজিটাল বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি (ডিবিআইডি) নিবন্ধন নিতে হবে।

শুধু বিজ্ঞাপন নয়, বাংলাদেশে অনলাইনের মাধ্যমে কোনো পণ্য বা সেবা বিক্রি করতে চাইলেও একই নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হবে। নিবন্ধনের পরই প্রচলিত আইন, কর ও ভ্যাট-সংক্রান্ত বিধান অনুসরণ করে বিদেশি পণ্য ও সেবার বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা মেনে কেবল বৈধ পণ্য ও সেবার বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ থাকবে। নকল, নিষিদ্ধ বা ভোক্তাকে বিভ্রান্ত করতে পারে - এমন কোনো পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা যাবে না।

নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ ও নিরাপদ করতে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য পেমেন্ট সিস্টেম চালু এবং দেশের বিদ্যমান পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে বৈশ্বিক পেমেন্ট নেটওয়ার্কের সংযোগ স্থাপন করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে ক্রস-বর্ডার এসক্রো সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।

একইসঙ্গে নিবন্ধিত ডিজিটাল বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয় দেশে আনা এবং আমদানি ব্যয় পরিশোধ সহজ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আমদানির ক্ষেত্রে বিল অব এন্ট্রি, বিল অব লেডিং বা ইনভয়েসে ক্রেতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা মার্কেটপ্লেসের পরিচয়ও উল্লেখ করতে হবে।

ডিজিটাল বাণিজ্যের মাধ্যমে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এমএসএমই) আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ করাকেও নীতিমালার অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ জন্য পার্সেলভিত্তিক রপ্তানিতে বিশেষ নীতিসহায়তা ও বীমা সুবিধা চালুর কথা বলা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধান, ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পণ্য ও সেবা সরবরাহের সক্ষমতা গড়ে তুলতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে অর্জিত রপ্তানি আয়কে প্রচলিত রপ্তানির মতো স্বীকৃতি দিয়ে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার বিষয় সরকার বিবেচনা করবে। দেশে ও বিদেশে বেসরকারি উদ্যোগে প্রসেসিং সেন্টার, ওয়্যারহাউস ও গুদাম স্থাপন, ড্রপ শিপিং, এন্ট্রেপোর্ট ট্রেড ও মার্চেন্টিং ট্রেডেও নীতিগত সহায়তার কথা নীতিমালায় বলা হয়েছে।

খসড়া নীতিমালায় ডিজিটাল বাণিজ্যে প্রতারণা ও ভোক্তা হয়রানি রোধে একাধিক বিধান যুক্ত করা হয়েছে। নকল, ভেজাল বা প্রতারণামূলক পণ্য বিক্রি, অনলাইন জুয়া, বেটিং, লটারি এবং আমদানি-রপ্তানি নীতিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো পণ্য বা সেবার ডিজিটাল বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে ত্রুটিপূর্ণ, নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ বা চুক্তির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পণ্য সরবরাহ করা হলে বিক্রেতাকে তা ফেরত নিতে হবে এবং গ্রাহকের পরিশোধিত সম্পূর্ণ অর্থ একই পেমেন্ট মাধ্যমেই ফেরত দিতে হবে। বিক্রয়োত্তর সেবা, ওয়ারেন্টি, গ্যারান্টি এবং রিফান্ড নীতিও গ্রাহককে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ব্যবসা-টু-ব্যবসা (বি-টু-বি), ব্যবসা-টু-ভোক্তা (বি-টু-সি) এবং ব্যবসা-টু-ব্যবসা-টু-ভোক্তা (বি-টু-বি-টু-সি) ভিত্তিক ডিজিটাল আমদানি ও রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। একইসঙ্গে অনলাইনে আমদানির ক্ষেত্রে মূল্যসীমা যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ বা পুনর্বিবেচনার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। আমদানি ও রপ্তানি করা পণ্য ফেরতের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে ডিজিটাল বাণিজ্য ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও এতদিন আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল বাণিজ্যের জন্য সমন্বিত কোনো নীতিমালা ছিল না। ফলে বিদেশি প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহি, রাজস্ব আদায় ও ভোক্তা সুরক্ষায় নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে এসব বিষয়ে একটি কাঠামো তৈরি হবে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে বিদেশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর ক্ষেত্রে বিধানগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।

আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত নীতিমালার ওপর জনমত গ্রহণ করা হবে। মতামত পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নীতিমালাটি চূড়ান্ত করবে ।

   

About

Popular Links

x