২০২২-২০২৩ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশের ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেন ৬৩.৬৩% বৃদ্ধি পেয়েছে।
জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে অর্থ আদানপ্রদান হয়েছে ২,১৯,৯৬০ কোটি টাকা।
আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ১,৩৪,৪২৫ কোটি টাকা।
ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই বছরের মধ্যে ইন্টারনেট লেনদেনের পরিমাণ ২৪৭% বেড়ে ২৯,৩৮৫.৯ কোটি টাকা হয়েছে। যা ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৮,৪৭৭.৩ কোটি টাকা।
২০২৩ সালের প্রথম মাসে সবচেয়ে বেশি ৩৩,৯২৫.৬ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিভিন্ন আর্থিক সেবা পেতে দেশের গ্রাহকরা কম্পিউটার ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করছেন।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুসারে ইন্টারনেট ব্যাংকিং গ্রাহকের সংখ্যা ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রেকর্ড ৬.৫৭ মিলিয়ন বেড়েছে।
যা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৪.৭ মিলিয়ন ও ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৩.৪ মিলিয়ন ছিল।
ইন্টারনেট ব্যাংকিং যা অনলাইন ব্যাংকিং হিসেবেও পরিচিত। এই পদ্ধতিতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করা যায়। এতে গ্রাহকরা আমানত, স্থানান্তর এবং অনলাইন বিল পেমেন্টের মতো প্রায় সব সেবাই পাছেন। যা আগে শুধু স্থানীয় শাখার মাধ্যমে পাওয়া যেতো।
দুই দশক আগে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের চালু করা ইন্টারনেট ব্যাংকিং দেশে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে।
যে কারণে তরতরিয়ে বাড়লো ইন্টারনেট ব্যাংকিং
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রধান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, যে গ্রাহকরা ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করেন, তারা নিজে প্রথমবার ব্যবহারের পড়ে বন্ধুবান্ধব ও পরিবারকেও একইভাবে লেনদেনের সুপারিশ করে থাকেন।
ব্যাংকাররা বলছেন, ইন্টারনেট ব্যাংকিং শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালানোর একটি নিরাপদ এবং সুবিধাজনক উপায়।
এছাড়া ব্যাংকগুলোও তাদের অনলাইন ব্যাংকিং পদ্ধতিতে গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে নানা মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনসহ বিভিন্ন পণ্য অফার করেছে।
ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ক্রমবর্ধমান সংখ্যা ও স্মার্টফোনের প্রাপ্যতা ইন্টারনেট ব্যাংকিংকে ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করেছে।
অনলাইন লেনদেনের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা মোকাবেলায়, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আন্তঃব্যাংক দৈনিক অনলাইন লেনদেনের সীমা বাড়িয়েছে, যার মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের জন্য পাঁচগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারকারীদের জন্য সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানো হয়েছে।
একক লেনদেনের সীমাও ৫০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। গ্রাহকরা এখন প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেন করতে পারবেন, যা আগের পাঁচটি থেকে বেশি।
প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারকারীদের জন্য দৈনিক লেনদেনের সীমা ১০ লাখ টাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবহার করে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২০টি লেনদেন করতে পারবে। যেখানে একটি একক লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা দুই লাখ টাকা।
আগে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীদের মধ্যে কোন পার্থক্য ছিল না।
প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত উভয় গ্রাহকদের দৈনিক আন্তঃব্যাংক ফান্ড ট্রান্সফার (আইবিএফটি) সীমা দুই লাখ টাকা।
উভয় শর্তে প্রতিদিন সর্বাধিক পাঁচটি লেনদেনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, একটি একক লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ৫০,০০০ টাকা।
আইবিএফটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়।
বাংলাদেশ রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্কও ইন্টারনেট ব্যাংকিংকে উৎসাহিত করেছে।
গ্রাহকরা তাৎক্ষণিকভাবে আরটিজিএস-এর মাধ্যমে বড় পরিমাণের লেনদেন নিষ্পত্তি করতে পারেন। যখন বিইএফটিএন তাদের খুচরা লেনদেন একদিনের মধ্যে করতে সহায়তা করে।



