সরকারি সেবা নিতে গেলে যদি কারও করযোগ্য আয় নাও থাকে, তবু তাকে ২ হাজার টাকা কর দিতে হবে। ন্যূনতম কর আরোপের এমন প্রস্তাব করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে।
এ প্রস্তাবকে বৈষম্যমূলক বলে মনে করে বাতিলের সুপারিশ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, “যার করযোগ্য আয় নেই, তার ওপরে এটা চাপিয়ে দেওয়াটা একটা বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত। এই নিয়ম তুলে দেওয়া হোক।”
শুক্রবার (২ জুন) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ফাহমিদা খাতুন বলেন, “উচ্চআয়ের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দেখা গেল, যাদের আয় ৩ কোটি টাকার ওপরে, তাদের ওপর একটা সারচার্জ ধার্য করা ছিল। তবে এবার সেটা ৪ কোটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উচ্চআয়ের ক্ষেত্রে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে, আবার নিম্নআয়ের ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকার যে করের বিধান, এটি গ্রহণযোগ্য নয়।”
সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এবং জ্যেষ্ঠ গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান নিশ্চিত ও “স্মার্ট বাংলাদেশ” গড়ার প্রয়াসে গুরুত্ব দিয়ে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পেশ করেছেন আ হ ম মুস্তফা কামাল।
সবশেষ বাজেটটি আগের বাজেটের চেয়ে ১২.৩৪% বড়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হয়েছিল।
২০২৩-২৪ সালে প্রস্তাবিত বাজেট ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদের শেষ বাজেট। এটি দেশের ৫২তম, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের ২৪তম ও মুস্তফা কামালের পঞ্চম বাজেট।
এই বাজেটে ন্যূনতম কর আরোপের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। বাজেটে ব্যয়ের বিপরীতে ৫ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত কর থেকে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, এনবিআর-বহির্ভূত কর থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং কর ব্যতীত রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা।
“উন্নয়নের দেড় দশক: স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে” শিরোনামে বাজেট বক্তৃতা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে জনগণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।



