ঈদ-উল-আজহার ১০ দিনের দীর্ঘ ছুটির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও কন্টেইনার জট তৈরি হয়েছে। ছুটির সময় বন্দর সচল থাকলেও আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অধিকাংশ শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় কন্টেইনার খালাসের গতি কমে যায়।
বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, স্বাভাবিক সময়ে দিনে গড়ে চার হাজারের বেশি কন্টেইনার খালাস হয়। কিন্তু ছুটির সময় প্রতিদিন গড়ে মাত্র দেড় হাজার কন্টেইনার খালাস হয়েছে। ফলে বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে ৪৫টি বিদেশগামী জাহাজ। এর মধ্যে ১২টি কন্টেইনারবাহী।
রবিবার (১৫ জুন) সর্বশেষ খালাসের অপেক্ষায় কন্টেইনার রয়েছে ৪৪,৫৪৮ টিইইউস (বিশ ফুট সমতুল্য কন্টেইনার)।
বন্দরের অভ্যন্তরে কন্টেইনার কমলেও বহির্নোঙরে ১২টি কন্টেইনারবাহী জাহাজ অবস্থান করছে। এসব জাহাজে আছে প্রায় ১২,০০০ কন্টেইনার। পাশাপাশি বন্দর জেটিতেও ১১ জাহাজে কন্টেইনার ওঠানামা হচ্ছে। মূলত গত ১১ দিনে বন্দরের স্বাভাবিক অপারেশনাল কার্যক্রম চললেও বেসরকারি ১৯ ডিপো থেকে বেশি কন্টেইনার আসায় নতুন করে জট তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি ১৯ ডিপো থেকে বেশি কন্টেইনার বন্দরে এলেও সে অনুপাতে কন্টেইনার ডিপোতে না যাওয়াতে বন্দরের অভ্যন্তরে কন্টেইনার জট তৈরি হয়েছে।
বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ঈদ-উল-আজহার ছুটির আগে ৪ জুন চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার ছিল ৩৬,২১৫ টিইইউস। এর মধ্যে ১১ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি করা কন্টেইনার নেমেছে ৪২,৭৯৫ টিইইউস এবং রপ্তানিপণ্যবাহী কন্টেইনার জাহাজীকরণ হয়েছে ৪২,০৪২ টিইইউস।
একই সময়ে বেসরকারি ডিপোগুলো থেকে রপ্তানিপণ্য ভর্তি কন্টেইনার আসে ১৫,৯৪৮ টিইইউস আর খালি কন্টেইনার আসে ৬,৬২৫ টিইইউস। পাশাপাশি আমদানি পণ্যভর্তি ৯,৮০২ টিইইউএস এবং খালি ৫,২৮৩ টিইইউস কন্টেইনার ডিপোগুলোতে পাঠানো হয়।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বন্দর অভ্যন্তরে ৮,৮৮৮ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙর মিলে পণ্য ও কন্টেইনারবাহী ৯৮টি জাহাজ বর্তমানে অবস্থান করছে। এর মধ্যে ৫৫টি জাহাজ থেকে কন্টেইনার ও বাল্ক পণ্য খালাস চলছিল। অন্যদিকে গত ৪ জুন চট্টগ্রাম বন্দরে জেটি ও বহির্নোঙরে জাহাজ ছিল ১৪৭টি।
বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জাহাজ থেকে কন্টেইনার বন্দরে নেমেছে ৫,২০৬ টিইইউস, ঢাকা আইসিডি (ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো) থেকে এসেছে ১৮৬ টিইইউস। অফডকগুলো থেকে রপ্তানিপণ্য ভর্তি কন্টেইনার এসেছে ২,৩২৪ টিইইউস এবং খালি কন্টেইনার এসেছে ৮৩৭ টিইইউ’স।
একইভাবে, ৩,৬৮২ টিইইউস কন্টেইনার জাহাজীকরণ হয়েছে। ৮৯ টিইইউস কন্টেইনার ঢাকা আইসিডিতে পাঠানো হয়েছে। অফডকগুলোতে আমদানিপণ্য ভর্তি কন্টেইনার পাঠানো হয়েছে ১,২১১ টিইইউস। বন্দর থেকে ৯৯২ টিইইউস খালি কন্টেইনার অফডকগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
৪৩৭ টিইইউস আমদানিপণ্যবাহী কন্টেইনার অনচেচিজ সরাসরি আমদানিকারকদের ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন্দর অভ্যন্তর থেকে ৭৮৮ টিইইউস কন্টেইনার পণ্য খালাস দেওয়া হয়েছে।
বন্দরে আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, শুরুতে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কলমবিরতির কারণে বন্দরে কন্টেইনার জট তৈরি হয়। পরে গত ৫ জুন থেকে শুরু হয় কোরবানির ঈদের টানা আটদিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন।
এসময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সচল থাকলেও আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোম্পানি, শিল্প কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ বন্ধ থাকায় কন্টেইনার খালাস কম হয়েছে।
শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, “সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে সামনের কর্মদিবসগুলোতে সব স্টেকহোল্ডাররা কাজে ফিরলে সরবরাহ বাড়বে এবং বন্দরে জমে থাকা কন্টেইনারের পরিমাণ কমে আসবে।”
চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, “অতীতের অভিজ্ঞতায় এবার ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে আগেই বন্দরের ইয়ার্ড খালি করার চেষ্টা ছিল। বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে সভা করে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেকারণে এবারের ঈদের বন্ধে অন্যবারের তুলনায় ভালো অবস্থায় ছিল।”



