‘ডন ৩’ সিনেমা থেকে হঠাৎ সরে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে বলিউড অভিনেতা রণবীর সিং-কে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার জেরে ছবিটির নির্মাতা ফারহান আখতার এবং রণবীরের মধ্যে কয়েক মাস ধরেই টানাপোড়েন চলছিল বলে জানা গেছে। এবার সেই বিরোধ আরও তীব্র আকার নিয়েছে।
ঘটনার জেরে গত সোমবার রণবীর সিংয়ের সঙ্গে কাজ না করার ঘোষণা দিয়েছে ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ। তবে সংগঠনটির এই সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে কতটা কার্যকর এবং এর ফলে রণবীরের ক্যারিয়ারে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েই এখন বলিউডজুড়ে আলোচনা চলছে।
বিতর্কের সূত্রপাত ডন ৩ সিনেমাকে ঘিরে। ছবিটি থেকে শেষ মুহূর্তে রণবীর সিং সরে দাঁড়ানোর পর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও নির্মাতারা তার বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতি এবং চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তোলে। এরপর বিষয়টি নিয়ে অভিনেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ।
সংগঠনটির সভাপতি অশোক পণ্ডিত দাবি করেন, প্রথমদিকে রণবীর তাদের চিঠির জবাব দেননি। পরে ই-মেইলে অভিনেতা জানান, এটি মূলত চুক্তিগত বিরোধ এবং এ ধরনের বিষয়ে সংগঠনটির হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার নেই। তার মতে, এ ধরনের বিরোধ আদালত বা সালিসি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
এরপরই সংগঠনটির পক্ষ থেকে ‘নন-কো-অপারেশন ডিরেকটিভ’ জারি করা হয়। এর অর্থ, সংগঠনের আওতাভুক্ত সদস্যদের রণবীর সিংয়ের সঙ্গে কোনো প্রকল্পে কাজ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলিউডে একটি সিনেমা নির্মাণে বিপুলসংখ্যক টেকনিশিয়ান, মেকআপ শিল্পী, লাইটিং কর্মী ও অন্যান্য সহকারী জড়িত থাকায় এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ শুটিং ও প্রযোজনায় জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সংগঠন সাধারণত মধ্যস্থতাকারী বা চাপ প্রয়োগকারী গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করে। বেতন, কর্মপরিবেশ বা পেশাগত বিরোধে তারা ভূমিকা রাখতে পারলেও কোটি টাকার চুক্তিভঙ্গ বা ক্ষতিপূরণের মতো বিষয় শেষ পর্যন্ত আদালত বা সালিসি বোর্ডেই নিষ্পত্তি হয়।
এদিকে পুরো ঘটনায় এখন পর্যন্ত সংযত অবস্থান নিয়েছেন রণবীর সিং। তার মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, রণবীর পুরো চলচ্চিত্র অঙ্গন এবং ‘ডন ৩’-এর সঙ্গে যুক্ত সবার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান পোষণ করেন। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নীরব থেকেছেন, কারণ তিনি বিশ্বাস করেন পেশাগত আলোচনা ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক মর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের সঙ্গে সামলানো উচিত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা ও ভিন্ন বয়ান সামনে এলেও রণবীর কখনো প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি। বর্তমানে তার পুরো মনোযোগ কাজ ও সামনের প্রকল্পগুলোর দিকেই রয়েছে।
রণবীরের টিম জানিয়েছে, ‘ডন’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত সবার প্রতি অভিনেতার এখনো গভীর শ্রদ্ধা ও শুভকামনা রয়েছে। একই সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ভবিষ্যৎ সাফল্যও কামনা করেছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, চাইলে রণবীর সিং আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন। কারণ, কোনো ট্রেড ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত যদি কারও কাজের অধিকার ক্ষুণ্ন করে বা কালো তালিকাভুক্ত করার পরিস্থিতি তৈরি করে, তাহলে আদালত বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারে।
এ বিরোধের প্রভাব রণবীরের আসন্ন সিনেমাগুলোর ওপরও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নির্মাতা হংসল মেহতা প্রযোজিত এবং পরিচালক জয় মেহতা পরিচালিত নতুন পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপটিক থ্রিলারটির শুটিং আগামী আগস্টে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বিরোধ দীর্ঘায়িত হলে সেই প্রকল্পেও টেকনিক্যাল টিম গঠন ও শুটিং পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



