কত নায়িকা এলো, গেল কিন্তু সুচিত্রা সেন একজনই। বাঙালি নারীর প্রতিচ্ছবি মানে তিনি। চলচ্চিত্র তারকাদের সচরাচর যাপিত স্খলিত জীবনের বাইরে শালীনতায় মোড়া সুচিত্রা সেন যেন এক হৃদয় ঈশ্বরী
সংগৃহীত
হাসান শাওন
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ০৩:১৮ পিএমআপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ০৩:১৮ পিএম
এখন তো রমা পাসপোর্ট, কাঁটাতার সীমান্তের উর্ধ্বে। তার কি ইচ্ছে করে না আমাদের জনপদ পাবনায় জন্মভিটা দেখে যেতে? বেণী দুলিয়ে এখনও সে পথে বালিকারা স্কুলে যায়। সুচিত্রা সেন হওয়ার বহু আগে এ পথেই হেঁটেছেন তিনি। স্মৃতিচিহ্ন রাষ্ট্রের সংস্কৃতি কর্তারা রাখুক বা মুছে ফেলুক এ রাঙা পথ অনন্তলোকের রমাকে ডাকবেই।
আজ ১৭ জানুয়ারি সেলুলয়েডের সুচিত্রা সেন নামের রমা দাশগুপ্তের প্রয়াণ দিবস।
মহানায়িকার প্রতি অনন্ত শ্রদ্ধা!
১৯৭৮ সাল থেকে তিনি সিনে পর্দায় নেই। কিন্তু তার প্রভাব বাঙালির কাছে নিঃশেষ হবে না কোনোদিন। কত নায়িকা এলো, গেল কিন্তু সুচিত্রা সেন একজনই। বাঙালি নারীর প্রতিচ্ছবি মানে তিনি। চলচ্চিত্র তারকাদের সচারচর যাপিত স্খলিত জীবনের বাইরে শালীনতায় মোড়া সুচিত্রা সেন যেন এক হৃদয় ঈশ্বরী। তিনি প্রপিতামহ জেনারেশনের ফেভারিট। পিতামহ প্রজন্ম বুঁদ ছিলেন তাকে নিয়ে। পিতা হয়ে সুচিত্রাকে ভালোবাসে আজকের তারুণ্য। বাঙালি পারফেক্ট জুটি বলতে এখনো বোঝে সেই উত্তম-সুচিত্রাকেই। বহমান এমন ভালোবাসার উৎস লাগে রহস্যময়। এই রহস্যময়তাই কি সুচিত্রাকে অনন্যা রাখে। ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল তিনি পাবনায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন এক স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মা ইন্দিরা দেবী ছিলেন গৃহবধূ। তিনি ছিলেন পরিবারের পঞ্চম সন্তান ও তৃতীয় কন্যা। পাবনা শহরেই তিনি পড়াশোনা করেন। তিনি ছিলেন কবি রজনীকান্ত সেনের নাতনি।
সুচিত্রা সেন শুধু বাংলা জনপদ জয়ী ছিলেন না। তিনি প্রথম ভারতীয় অভিনয় শিল্পী যিনি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়েছিলেন। “সাত পাকে বাঁধা” ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৬৩ সালে মস্কো চলচ্চিত্র উৎসব থেকে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান তিনি। এখন বিশ্বসভায় গুরুত্ব পেতে থাকা বাংলা ছবির প্রথম মশালধারী ছিলেন সুচিত্রা সেন।
সুচিত্রা সেন সব মিলিয়ে ৬৮ টি ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত সময় জুড়ে তার ক্যারিয়ার। শত শত ছবিতে দশকের পর দশক কাজ করে অনেকে যা পান না তিনি অর্জন করেছেন কীর্তিগুণে সে খেতাব "মহানায়িকা"।
সুচিত্রা সেনকে নিয়ে অদম্য কৌতূহল কোনো দিনই থামবে না। আমি নিজেই কত কী ভাবি! কেন সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে কোনো কাজ পেলাম না সুচিত্রার? ভারত "পদ্মশ্রী" কেন দিল্লি গেলেন না দাদা সাহেব ফালকে পদক নিতে? সবশেষে কোটি কোটি মানুষের মতো এ ভাবনাটি আসে যে, কেন নিজেকে এমন অন্তরীণ রাখলেন জীবনের এতটা সময়? বাংলাদেশ কর্তারা একবারও কেন ভাবলেন এমন নক্ষত্রকে (যিনি এ মাটির সন্তান) সম্মাননা দেয়ার যৌক্তিক কারণটি?
এইসব প্রশ্ন উত্তর যেমন পাই না। তেমন পাই না সুচিত্রা সেনের উত্তরসূরী কাউকেও। তখন মনে হয় সুচিত্রা সেন মূলত "এই পৃথিবী একবারই পায় তারে" সত্তার এক চরিত্র।
ফ্রিল্যান্স লেখক ও সাংবাদিক হাসান শাওনের জন্ম, বেড়ে ওঠা রাজধানীর মিরপুরে। পড়াশোনা করেছেন মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বাঙলা কলেজ, বাংলাদেশ সিনেমা ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে। ২০০৫ সাল থেকে তিনি লেখালেখি ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। কাজ করেছেন সমকাল, বণিক বার্তা, ক্যানভাস ম্যাগাজিন ও আজকের পত্রিকায়।
২০২০ সালের ১৩ নভেম্বর হাসান শাওনের প্রথম বই “হুমায়ূনকে নিয়ে” প্রকাশিত হয়।
প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রকাশিত লেখার জন্য ঢাকা ট্রিবিউন কোনো ধরনের দায় নেবে না।
মহানায়িকার প্রয়াণ দিবস
কত নায়িকা এলো, গেল কিন্তু সুচিত্রা সেন একজনই। বাঙালি নারীর প্রতিচ্ছবি মানে তিনি। চলচ্চিত্র তারকাদের সচরাচর যাপিত স্খলিত জীবনের বাইরে শালীনতায় মোড়া সুচিত্রা সেন যেন এক হৃদয় ঈশ্বরী
এখন তো রমা পাসপোর্ট, কাঁটাতার সীমান্তের উর্ধ্বে। তার কি ইচ্ছে করে না আমাদের জনপদ পাবনায় জন্মভিটা দেখে যেতে? বেণী দুলিয়ে এখনও সে পথে বালিকারা স্কুলে যায়। সুচিত্রা সেন হওয়ার বহু আগে এ পথেই হেঁটেছেন তিনি। স্মৃতিচিহ্ন রাষ্ট্রের সংস্কৃতি কর্তারা রাখুক বা মুছে ফেলুক এ রাঙা পথ অনন্তলোকের রমাকে ডাকবেই।
আজ ১৭ জানুয়ারি সেলুলয়েডের সুচিত্রা সেন নামের রমা দাশগুপ্তের প্রয়াণ দিবস।
মহানায়িকার প্রতি অনন্ত শ্রদ্ধা!
১৯৭৮ সাল থেকে তিনি সিনে পর্দায় নেই। কিন্তু তার প্রভাব বাঙালির কাছে নিঃশেষ হবে না কোনোদিন। কত নায়িকা এলো, গেল কিন্তু সুচিত্রা সেন একজনই। বাঙালি নারীর প্রতিচ্ছবি মানে তিনি। চলচ্চিত্র তারকাদের সচারচর যাপিত স্খলিত জীবনের বাইরে শালীনতায় মোড়া সুচিত্রা সেন যেন এক হৃদয় ঈশ্বরী। তিনি প্রপিতামহ জেনারেশনের ফেভারিট। পিতামহ প্রজন্ম বুঁদ ছিলেন তাকে নিয়ে। পিতা হয়ে সুচিত্রাকে ভালোবাসে আজকের তারুণ্য। বাঙালি পারফেক্ট জুটি বলতে এখনো বোঝে সেই উত্তম-সুচিত্রাকেই। বহমান এমন ভালোবাসার উৎস লাগে রহস্যময়। এই রহস্যময়তাই কি সুচিত্রাকে অনন্যা রাখে। ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল তিনি পাবনায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন এক স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মা ইন্দিরা দেবী ছিলেন গৃহবধূ। তিনি ছিলেন পরিবারের পঞ্চম সন্তান ও তৃতীয় কন্যা। পাবনা শহরেই তিনি পড়াশোনা করেন। তিনি ছিলেন কবি রজনীকান্ত সেনের নাতনি।
সুচিত্রা সেন শুধু বাংলা জনপদ জয়ী ছিলেন না। তিনি প্রথম ভারতীয় অভিনয় শিল্পী যিনি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়েছিলেন। “সাত পাকে বাঁধা” ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৬৩ সালে মস্কো চলচ্চিত্র উৎসব থেকে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান তিনি। এখন বিশ্বসভায় গুরুত্ব পেতে থাকা বাংলা ছবির প্রথম মশালধারী ছিলেন সুচিত্রা সেন।
সুচিত্রা সেন সব মিলিয়ে ৬৮ টি ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত সময় জুড়ে তার ক্যারিয়ার। শত শত ছবিতে দশকের পর দশক কাজ করে অনেকে যা পান না তিনি অর্জন করেছেন কীর্তিগুণে সে খেতাব "মহানায়িকা"।
সুচিত্রা সেনকে নিয়ে অদম্য কৌতূহল কোনো দিনই থামবে না। আমি নিজেই কত কী ভাবি! কেন সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে কোনো কাজ পেলাম না সুচিত্রার? ভারত "পদ্মশ্রী" কেন দিল্লি গেলেন না দাদা সাহেব ফালকে পদক নিতে? সবশেষে কোটি কোটি মানুষের মতো এ ভাবনাটি আসে যে, কেন নিজেকে এমন অন্তরীণ রাখলেন জীবনের এতটা সময়? বাংলাদেশ কর্তারা একবারও কেন ভাবলেন এমন নক্ষত্রকে (যিনি এ মাটির সন্তান) সম্মাননা দেয়ার যৌক্তিক কারণটি?
এইসব প্রশ্ন উত্তর যেমন পাই না। তেমন পাই না সুচিত্রা সেনের উত্তরসূরী কাউকেও। তখন মনে হয় সুচিত্রা সেন মূলত "এই পৃথিবী একবারই পায় তারে" সত্তার এক চরিত্র।
ফ্রিল্যান্স লেখক ও সাংবাদিক হাসান শাওনের জন্ম, বেড়ে ওঠা রাজধানীর মিরপুরে। পড়াশোনা করেছেন মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বাঙলা কলেজ, বাংলাদেশ সিনেমা ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে। ২০০৫ সাল থেকে তিনি লেখালেখি ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। কাজ করেছেন সমকাল, বণিক বার্তা, ক্যানভাস ম্যাগাজিন ও আজকের পত্রিকায়।
২০২০ সালের ১৩ নভেম্বর হাসান শাওনের প্রথম বই “হুমায়ূনকে নিয়ে” প্রকাশিত হয়।
প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রকাশিত লেখার জন্য ঢাকা ট্রিবিউন কোনো ধরনের দায় নেবে না।
বিষয়: