সাম্প্রতিক সময়ে বিনোদন জগতে বাংলাদেশের কনটেন্টকে আন্তর্জাতিক পরিসরে যেসব তরুণ নির্মাতারা গর্বের সঙ্গে তুলে ধরছেন তাদের মধ্যে নুহাশ হুমায়ূন অন্যতম। নাটক “হোটেল আলবাট্রোস”, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “৭০০ টাকা” এবং সম্প্রতি ওয়েব সিরিজ “পেট কাটা ষ” দিয়ে নিজের নির্মাণের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তিনি।
অতি সম্প্রতি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “মশারি” ও আন্তর্জাতিক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম “হুলু”তে কনটেন্ট তৈরি নুহাশের ক্যারিয়ারে যোগ করেছে সফলতার নতুন পালক।
“অস্কার কোয়ালিফাইং” প্রশংসিত “মশারি” চলচ্চিত্রটি দেশের মানুষ কবে দেখতে পারবেন তা নিয়েও রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
নুহাশ হুমায়ূন ইউএনবিকে জানান, অক্টোবরে আসতে যাচ্ছে প্রতীক্ষিত এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্মাতার একটি কাজের জন্য দর্শকদের আগ্রহ অনুপ্রেরণা জোগায়। মশারির জন্য হয়তো আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না। আশা করি অক্টোবরে কাজটি সবাই দেখতে পারবে।
এ কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “১০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে এটি নির্মাণ করতে। মূলত ১০ বছর আগে এর গল্প মাথায় আসে। কিন্তু সেই সময় এমন একটা ফিকশন নির্মাণের জন্য যেমন সাহস করতে পারিনি, তেমনি সাপোর্ট ছিল না। যখন নির্মাণ শুরু করি তখনও অনেক ক্রিয়েটিভ সাপোর্টের অভাববোধ করেছি। তবে শেষ পর্যন্ত কাজটি শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ সাড়া পেয়েছি। এখন অপেক্ষা বাংলাদেশের দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার।”
“মশারি” নিয়ে আলোচনা শেষ না হতেই খবর আসে প্রথমবার কোনো বাংলাদেশি নির্মাতা হিসেবে আন্তর্জাতিক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হুলু’র জন্য কনটেন্ট নির্মাণ করছেন নুহাশ হুমায়ূন। এরই মধ্যে কনটেন্টটির নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। যেখানে রয়েছেন দেশের অনেক পরিচিত অভিনয়শিল্পী। কাজটির ব্যাপারে বেশ গোপনীয়তা বজায় রাখছেন নুহাশ। তার কারণ হুলু থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারের অপেক্ষা।
হুলুর কনটেন্ট নিয়ে নুহাশ বলেন, “হ্যালোইন উপলক্ষে হুলু কয়েকটি কনটেন্ট প্রযোজনা করেছে। সেগুলোর একটি আমার নির্মাণ করা। অক্টোবরে হ্যালোইন ডে’তে এটি প্রচার হবে। এটি একটি সিঙ্গেল কনটেন্ট। এর চেয়ে বেশি এখনই বলা সম্ভব নয়। হুলু অফিশিয়ালি ঘোষণার পর সবাই বিস্তারিত জানতে পারবেন।”
হুলুর কনটেন্টটি পরিচালনার পাশাপাশি চিত্রনাট্যও লিখেছেন নুহাশ। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় এটি নির্মাণ হয়েছে। জানা গেছে, হলিউডের দুই এজেন্সি অ্যানোনিমাস কনটেন্ট ও ক্রিয়েটিভ আর্টিস্ট এজেন্সির (সিএএ) সঙ্গে চুক্তি হয় নুহাশের। এর মাধ্যমেই হুলুর সঙ্গে যুক্ত হোন তিনি।
হুলুর কাজটির সঙ্গে যুক্ত হওয়া নিয়ে ইউএনবিকে নুহাশ বলেন, “আমার কয়েকটি কাজ দেখে তারা আমাকে কাজটি দেয়। লস এঞ্জেলসে হুলুর অফিসে যখন যাই তখন বেশ ভয়ে ছিলাম। তবে মিটিংয়ের অভিজ্ঞতা বেশ পজিটিভ ছিল। তারা আমার সব পরিকল্পনার বেশ প্রশংসা করেছে। যা আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।”
কাজের ক্ষেত্রে সবসময় এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করেন নুহাশ। প্রতিবন্ধকতার মধ্যে চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন। তার নির্মাণ যেমন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের স্বীকৃতি পাচ্ছে, পাশাপাশি দর্শকদের মাঝেও জনপ্রিয় পাচ্ছে। তবে গল্প ভাবনার ক্ষেত্রে দর্শকের পছন্দ নাকি আন্তর্জাতিক পুরস্কারকে গুরুত্ব দেন তিনি? এমন প্রশ্ন রাখা হয় নুহাশের কাছে।
উত্তরে তিনি বলেন,“এভাবে আলাদা করে ভাবিনি। এটা ডিপেন্ড করে। তবে আমি সবসময় নিজের ভাবনাগুলো এক্সপেরিমেন্ট করতে চেয়েছি। ‘৭০০ টাকা’ স্বল্পদৈর্ঘ্যটি যখন জনপ্রিয়তা পায়, অনেকেই বলেছিলেন এমন কিছু আরও নির্মাণ করতে। আমি সেটা চাইনি। আমি প্রতিটি কাজ নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে চাই। এক্সপেরিমেন্ট করে ভুল করতে চাই। সেখান থেকে শিখতে চাই। আর একটি ব্যাপার,আমার এক্সপেরিমেন্ট করা কাজগুলোই দর্শক বেশি পছন্দ করেছেন। যার একটি ওয়েব সিরিজ ‘পেট কাটা ষ’।”
নুহাশ হুমায়ুনের ক্যারিয়ার খুব বেশি দিনের নয়। তার কথায়, পাঁচ বছর হয়তো। কিন্ত এই সময়ের মধ্যে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। তার ভিন্ন গল্পভাবনা জনপ্রিয় হয়েছে,দর্শকও প্রশংসা করেছে। এখন অপেক্ষা আলোচনায় থাকা মশারি ও হুলুর কনটেন্টটির জন্য।
তবে, নুহাশের ক্যারিয়ার গ্রাফ দেখার পর আশা করাই যায়, এবারও তার দারুণ মুন্সিয়ানা দেখতে পাবেন দর্শকেরা।



