টলিউডের জনপ্রিয় নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির পরিচালনায় কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেনের জীবন ও কর্ম অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে “পদাতিক” নামের সিনেমা। সেখানে মৃণাল সেনের ভূমিকায় অভিনয় করবেন চঞ্চল চৌধুরী। মৃণাল সেনের মতো একজনের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে চঞ্চলের ওপর আস্থা রাখার কারণ হিসেবে পরিচালক সৃজিত দুজনের মধ্যে বিভিন্ন সাদৃশ্যের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
“পদাতিক” সিনেমার মৃণাল সেনের চরিত্রের ফার্স্ট লুকে যেন সৃজিতের সেই কথারই বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেল। সাদা-কালো ছবিতে পাশাপাশি মৃণাল সেন এবং চঞ্চল চৌধুরীর মধ্যে পার্থক্য খুঁজে বের করতে অনেককেই নিশ্চিতভাবে গলদঘর্ম হতে হবে। চমকে যাওয়া অনেক দর্শকের ভাষ্যমতে, কোনটি মৃণাল সেন আর কোনটি চঞ্চল চৌধুরী সেটি তারা ধরতেই পারছেন না।
শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) “পদাতিক” সিনেমায় চঞ্চল চৌধুরীর তিনটি লুক প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে মৃণাল সেনের বিভিন্ন বয়সে চঞ্চল দেখতে কেমন, তা তুলনামূলকভাবে তুলে ধরা হয়েছে তিনটি ছবিতে। এর মধ্যে দুটি রূপ যৌবন ও মধ্যবয়সের, অন্যটি বৃদ্ধকালের। মৃণাল সেনের সাজে এভাবে চঞ্চল চৌধুরীর অবয়ব খাপে খাপ মিলে যাওয়ায় দর্শকরা দারুণ বিমোহিত।
“পদাতিক” সিনেমা মৃণাল সেনের স্ত্রী গীতা সেনের ভূমিকায় অভিনয় করবেন মনামী ঘোষ। তার লুকটিও প্রকাশ্যে এসেছে।
“পদাতিক” সিনেমা মৃণাল সেনের চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরী/সংগৃহীতএর আগে, বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে “পদাতিক” সিনেমার পোস্টার শেয়ার করে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী এবং সৃজিত মুখার্জির নাম উল্লেখ করে শুভকামনা জানিয়েছিলেন বিগ বি খ্যাত বলিউডের মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন।
২০২৩ সালে জাঁকজমকভাবে মৃণাল সেনের জন্মশত বর্ষ উদযাপন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে নির্মাণ করা হচ্ছে “পদাতিক”। এ সিনেমায় উঠে আসবে মৃণাল সেনের ব্যক্তিগত ও চলচ্চিত্র জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো। ছবিটিতে চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে অভিনয় করবেন টলিউডের মনামী ঘোষ, সম্রাট চক্রবর্তী প্রমুখ। জানুয়ারির মাঝামাঝিতে শুরু হবে এ ছবির শুটিং।
“পদাতিক”কে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজ হিসেবে দেখছেন সৃজিত মুখার্জি। এ বিষয়ে তিনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বলেন, “বায়োপিক বা ওই ধাঁচের ছবি আগেও করেছি। যেমন- ‘শাবাশ মিঠু' বা ‘এক যে ছিলো রাজা'। কিন্তু নিঃসন্দেহে এটা সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং!”
মৃণাল সেনের চরিত্রটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন কাজের জন্য নিজের দেশ-শহরের কারও ওপর নয়, বরং চঞ্চলের ওপর আস্থা রাখলেন সৃজিত মুখার্জি। এর পেছনেও বড় কারণ আছে। তিনি বলেন, “প্রথমত দুজনের মুখের মিল আছে। সেটা কাকতালীয়। কিন্তু মৃণালবাবুর মতোই চঞ্চলের চোখের দৃষ্টি অত্যন্ত ধারালো এবং সজাগ। এছাড়াও মৃণালবাবুর রাজনীতি চেতনা, তার যাপন এবং দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেও চঞ্চলের প্রচুর মিল। সেটা কাকতালীয় হতে পারে। কিন্তু মিলটা আছে।”
১৯২৩ সালের ১৪ মে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন মৃণাল সেন। পড়াশোনার জন্য কলকাতায় গিয়ে সেখানেই স্থায়ী হন। ১৯৫৫ সালে মুক্তি পায় তার নির্মিত প্রথম সিনেমা “রাত-ভোর”। যদিও সেটি খুব একটা সাফল্য পায়নি। তবে পরবর্তীতে “নীল আকাশের নিচে”, “বাইশে শ্রাবণ”, “ভুবন সোম”, “ইন্টারভিউ”, “কলকাতা ৭১”, “পদাতিক”, “মৃগয়া”র মতো কালজয়ী সব সিনেমা নির্মাণ করে খ্যাতি অর্জন করেন। বাংলা ভাষার চলচ্চিত্রে সর্বকালের সেরা নির্মাতাদের একজন তিনি।



