একটি সাক্ষাৎকারে সঞ্চালকের করা প্রশ্ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ ঝেড়েছেন তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা নুহাশ হুমায়ূন।
মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) রাতে দৈনিক প্রথম আলোর ফেসবুকভিত্তিক একটি লাইভ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে যোগ দেন নুহাশ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন সারা ফ্যায়রুজ যাইমা।
সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে সঞ্চালক নুহাশ হুমায়ূনকে প্রশ্ন করেন, “হুমায়ূন আহমেদের পুত্র না হলে আপনি এখানে থাকতেন বলে মনে হয় কি-না?”
জবাবে নুহাশ বলেন, “জানি না। সবশেষ আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় পাঁচটা ইন্টারভিউ করলাম। সেখানে এই জিনিসগুলো আসে না, আমার খুব আরাম লাগে। আন্তর্জাতিকভাবে মানুষ আমাকে কাজের ওপর চেনে। এটা আমাদের কালচারের একটি জিনিস, আর্টিস্টদের কাজের থেকে পার্সোনাল লাইফ নিয়ে ইন্টারেস্ট বেশি।”
তিনি বলেন, “এই প্রশ্নগুলো দেশের মিডিয়ার কাছ থেকে বেশি আসে, মিডিয়াগুলো এই রিপোর্ট করতে পছন্দ করে। কাজের সাকসেস নিয়ে ইয়ে করতে পছন্দ করে না। ব্যাপারটা আসলে মিডিয়ার সৃষ্টি। এটা নিয়ে আমি আসলে চিন্তা করি না। আমি ইন্টারন্যাশনালি সেলিব্রেটেড ফিল্মমেকার; ওখানে আসলে ফ্যামিলি নিয়ে চিন্তা করার কোনো স্পেস নাই।”
পরে বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্টও করেন নুহাশ হুমায়ূন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশে সাংবাদিকতা যদি আরেকটু সম্মানজনক হতো! একটু আগে প্রথম আলোর লাইভ ইন্টারভিউতে ছিলাম; ভেবেছিলাম সেখানে 'ষ' (ওয়েব সিরিজ) নিয়ে কথা হবে। সেখানে আমাকে প্রশ্ন করা হলো, হুমায়ূন আহমেদ আমার বাবা না হলে আমি এখানে আসতে পারতাম কি-না। আমি ধারণা নেই, আপনি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ও পুরস্কৃত একজন চলচ্চিত্র নির্মাতাকে এরকম প্রশ্ন কীভাবে করেন।”
তিনি আরও লিখেছেন, “তোমাদের কী মনে হয় সানডেন্স, বুসান, এসএক্সএসডব্লিউ, মার্শে দ্যু ফিল্ম বাপের নাম দেখে প্রোগ্রামে আমন্ত্রণ জানায়?”
নুহাশ হুমায়ূনের ওই পোস্টে অনেকেই সরব হয়েছেন। সেখানে নুহাশের মা গুলতেকিন খান, বোন নোভা আহমেদসহ নুহাশের সহকর্মীদের অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
গুলতেকিন খান লিখেছেন, “আপসেট হয়ো না বাবা। এ কারণেই আমি কোনো পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিই না। তারা নানাভাবে চেষ্টা করে; আমি বলি, প্রশ্ন মেইলে পাঠাও। আমি দেখলাম, কয়েকটা প্রশ্নের পর আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন করা শুরু করে। কেউ কেউ উত্তরের এক অংশ ধরে ভিডিও বানায়, নানা অসত্য তথ্য থাকে। এটাই কী পেশাদারিত্ব?”
অভিনেত্রী অপি করিম লিখেছেন, “খুবই টিপিক্যাল প্রশ্ন করেছে। এই ধরনের সাক্ষাৎকারগুলো এড়িয়ে চলো। বিশেষ করে কথিত, অর্থহীন লাইভ ইন্টারভিউগুলো।”
আর বোন নোভা আহমেদ এমন সংবাদকর্মীদের কাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন নুহাশকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথম আলোর ওই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক সারা ফ্যায়রুজ যাইমা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে বলেন, “নুহাশ হুমায়ূনকে “ছোট করা” কিংবা তার খারাপ লাগে এমন কিছু বলার কোনো উদ্দেশ্য আমার ছিল না। তারপরও যদি তার কোনো কিছু খারাপ লেগে থাকে, সেজন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। আর যারা বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন, তাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে, পুরো ইন্টারভিউ দেখলে জিনিসটা অনেকটাই ক্লিয়ার হবে।”
সঞ্চালক বলছেন, তিনি যে প্রশ্ন করেছেন, সেটা ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নয়, “একজন উপস্থাপকের জায়গা থেকেই” তার প্রশ্নটা করা।
তিনি বলেন, “প্রত্যেকেই জানতে চায়, বাবার পথ অনুসরণ করে কতটুকু এসেছেন। সেই জায়গা থেকেই প্রশ্নটা করেছি।”



