বাংলা ভাষার অন্যতম সেরা অভিনেতা মোশাররফ করিম। যেকোনো চরিত্রে, যেকোনো প্রেক্ষাপটের ভেতর তার অভিনয় অত্যন্ত নিখুঁত ও নিপুণ। নাটক-সিনেমা-ওয়েবসিরিজে দর্শক মাতিয়ে রাখা এই অভিনেতার মুক্তির তালিকায় রয়েছে “হুব্বা” নামে একটি সিনেমা।
কলকাতার এই সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন ব্রাত্য বসু। আলোচিত সিনেমাটি আগামী ১৯ জানুয়ারি দুই দেশেই একসঙ্গে মুক্তি পাচ্ছে। রবিবার সন্ধ্যায় এ নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মোশাররফ।
সেখানে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, চরিত্রে ঢুকতে তাকে কতটা স্ট্রাগল বা সংগ্রাম করতে হয়? জবাবে তিনি বলেন, “আসলে আমি স্ট্রাগল করি না। স্ট্রাগল শব্দটায় বিশ্বাসও করি না। আমার পরিবার কখনো আমাকে বাজারেও পাঠাতে পারেনি। কখনো কোনো আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত দিতে যেতে হবে, তখন আমি পালিয়ে যেতাম। কারণ ওখানে যাওয়াটা আমার কাছে ফাও পরিশ্রম মনে হতো। আমি করতাম না এসব। এ জন্য বাড়ির সবাই আমাকে ‘কামচোরা’ বলতো।”
অভিনয়ের জন্য কতটা পরিশ্রম করতে হয়, এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি থিয়েটারের জন্য, অভিনয়ের জন্য প্রচুর পরিশ্রম করেছি। আমি আসলে এই পরিশ্রমটাকে ভালোবেসেছি। যদি অভিনয়কে ভালোবাসি, আর এ জন্য প্রতি দিন ১০ মাইল হেঁটে রিহার্সালে যেতে হয়- তবে সেই পরিশ্রমে আনন্দ পাই। যে পরিশ্রমে আনন্দ পাই এটাকে স্ট্রাগল কেন বলবো?”
“হুব্বা” সিনেমার নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মোশাররফ। এই চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই চরিত্রে ঢোকার জন্যও স্ট্রাগল ছিল না। যুদ্ধ করে তো চরিত্রকে জয় করা যায় না। এটাকে ভালোবাসাই বলবো। ধীরে ধীরে, সময় নিয়ে ভালোবাসি।”
পশ্চিমবঙ্গের কুখ্যাত গ্যাংস্টার হুব্বা শ্যামলের জীবনের ঘটনাবলি নিয়ে নির্মিত হয়েছে “হুব্বা”। “হুগলির দাউদ ইব্রাহিম” খ্যাত হুব্বা খুন, মারামারি, মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত ছিলেন। অসংখ্য মামলার এই আসামি একপর্যায়ে নির্বাচনেও দাঁড়ান! বৈচিত্র্যে ভরা সেই চরিত্রেই মোশাররফ করিম অভিনয় করেছেন।
এই ছবিতে পুলিশের ভূমিকায় আছেন ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত। এছাড়া আছেন পৌলমী বসু, শ্রাবণী দাস, সৌমিক হালদার প্রমুখ। ছবিটি প্রযোজনা করেছে ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশনস। এটি আগামী ১৯ জানুয়ারি দুই বাংলায় একসঙ্গে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।



