Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পদ্মশ্রী পুরস্কার পাচ্ছেন ‘বড়লোকের বেটি লো’র স্রষ্টা রতন কাহার

  • এ বছর ১৩২ জন পদ্ম পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন
  • তাদের মধ্যে পাঁচজন পদ্মবিভূষণ, ১৭ জন পদ্মভূষণ ও ১১০ জন পেয়েছেন পদ্মশ্রী
আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:৪০ এএম

ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রীতে ভূষিত হলেন “বড়লোকের বেটি লো” বিখ্যাত লোকশিল্পী রতন কাহার। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার সিউড়ির বাসিন্দা। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) পদ্ম-সম্মানের তিন ক্যাটাগরি পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ ও পদ্মশ্রী খেতাব প্রাপকদের তালিকা প্রকাশ করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

রতন কাহার মূলত ভাদুগানের শিল্পী। ভাদুগান গেয়েই তাঁর গানের দুনিয়ায় পথচলা শুরু হয়েছিল। বীরভূমের সিউড়ির বাসিন্দা তিনি। ১৯৭২ সালে তাঁর গান প্রথম রেডিওতে রেকর্ড করা হয়। সেসময় পারিশ্রমিক হিসাবে রতন কাহার পেয়েছিলেন ৭৭ টাকা ১৫ পয়সা। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধারার লোকগান গেয়েছেন রতন কাহার।

ভাদু ছাড়াও টুসু, ঝুমুর, আলকাব গানেও খ্যাতি রয়েছে রতন কাহারের। এখনও পর্যন্ত ২৫০টি গান লিখেছেন তিনি। যার মধ্যে জনপ্রিয় “বড়লোকের বিটি লো”।

যদিও বহু প্রচলিত, জনপ্রিয় রতন কাহারের একসময়ের লেখা “বড়লোকের বিটি লো” গানটি নিয়ে একসময় কম বিতর্ক হয়নি। ২০২০ সালে বলিউডের “গেন্দা ফুল” খ্যাত গায়ক, র‍্যাপার বাদশা “বড়লোকের বিটি লো” গানটি রতন কাহারের নাম ছাড়া ব্যবহার করলে বিতর্ক চরমে ওঠে।

এ নিয়ে রতন কাহার অভিমানের সুরে বলেন, “অনেকেই আমার লেখা ও সুর করা গান নিয়ে নিজের নামে লিখেছেন। আমি গরিব, অসহায়। লোকে বেইমানি করলে আমি কী করবো! আমরা মাটির গান লিখি, তবে অনেকেই আমাদের সম্মান দেন না।”

পদ্মসম্মান পাওয়ার খবরে খানিকটা আবেগতাড়িত শিল্পী। গণমাধ্যমকর্মীরা অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার খুব ভালো লাগছে। সবাই আমায় এত ফোন করছে, খুব ভালো লাগছে। এর মতো ভালো আর কী হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার কিছু না দিলেও, ভারত সরকার আমায় এভাবে সম্মানিত করেছে এর জন্য আমি খুবই গর্বিত। আমার জীবন ধন্য।”

পদ্ম পুরষ্কার তিন বিভাগে দেওয়া হয় যথা- পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ এবং পদ্মশ্রী। শিল্প, সমাজকর্ম, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, বাণিজ্য ও শিল্প, জনসেবা, চিকিৎসা, সাহিত্য ও শিক্ষা, ক্রীড়া এবং নাগরিক পরিষেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এসব পদক দেওয়া হয়।

“পদ্মবিভূষণ” ব্যতিক্রমী এবং বিশেষ সেবার জন্য দেওয়া হয়। উচ্চমানের বিশিষ্ট সেবার জন্য দেওয় হয় “পদ্মভূষণ”। যে কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ সেবার জন্য দেওয়া হয় “পদ্মশ্রী”।

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস সামনে রেখে প্রতি বছর পদকপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়। সাধারণত মার্চ বা এপ্রিলে রাষ্ট্রপতি ভবনে অনুষ্ঠান করে পুরস্কারগুলো তুলে দেওয়া হয়।

পদক পেতে যাওয়া বিশিষ্টজনদের মধ্যে ৩০ জন নারী। তাদের মধ্যে ৮ জনকে দেওয়া হয়েছে বিদেশি, মরণোত্তরসহ তিন শ্রেণিতে।

   

About

Popular Links

x