আজ ২২ এপ্রিল, বিশ্ব ধরিত্রী দিবস। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে জলবায়ু পরিবর্তন যখন আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন এই দিনটির গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়েও বেশি। এবারের প্রতিপাদ্য - 'আওয়ার পাওয়ার, আওয়ার প্ল্যানেট' (আমাদের শক্তি, আমাদের পৃথিবী)। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় কেবল সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় না থেকে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত উদ্যোগের মাধ্যমে পৃথিবীকে রক্ষার আহ্বান জানানো হচ্ছে এবারের ধরিত্রী দিবসে।
১৯৭০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার পালিত হয়েছিল ধরিত্রী দিবস। সে সময় পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে প্রায় ২ কোটি মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। সময়ের বিবর্তনে আজ তা ১৯৩টিরও বেশি দেশে একটি বিশ্বজনীন আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এবারের ধরিত্রী দিবস এমন এক সময়ে পালিত হচ্ছে যখন বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং প্লাস্টিক দূষণ রোধে কঠিন সময় পার করছে মানবজাতি।
২০২৬ সালের মূল ভাবনা: প্লাস্টিক বনাম পৃথিবী
এবারের থিম মূলত সাধারণ মানুষের সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। ২০২৬ সালের ধরিত্রী দিবসে অন্যতম বড় লক্ষ্য হলো ২০৪০ সালের মধ্যে প্লাস্টিক উৎপাদন ৬০ শতাংশ কমিয়ে আনা। মাইক্রোপ্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাদ্যচক্রে মিশে যাচ্ছে এবং আমাদের স্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করছে, সেই বিষয়টি এবার সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
ধরিত্রী দিবস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
শুরুটা ছিল একটি প্রতিবাদ: ১৯৬৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারায় একটি ভয়াবহ তেল নিঃসরণের ঘটনা থেকে মানুষের মনে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি হয়, যা থেকেই জন্ম নেয় ধরিত্রী দিবস।
তারিখ নির্বাচনের কারণ: ২২ এপ্রিল তারিখটি বেছে নেওয়া হয়েছিল কারণ ১৯৭০ সালের এই সময়ে আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো পরীক্ষা বা ছুটি ছিল না। ফলে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিতে পেরেছিলেন।
বিশ্বায়ন: ১৯৯০ সাল থেকে এটি আন্তর্জাতিক রূপ পায়। বর্তমানে এই দিনটিকে অধিকাংশ দেশ 'ইন্টারন্যাশনাল মাদার আর্থ ডে' হিসেবে পালন করে।
প্যারিস চুক্তি: ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু চুক্তি 'প্যারিস এগ্রিমেন্ট' স্বাক্ষরের জন্য ২০১৬ সালের ধরিত্রী দিবসকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল।
সবচেয়ে বড় নাগরিক আয়োজন: ধরা হয়, ধরিত্রী দিবস বিশ্বের সবচেয়ে বড় 'অসাম্প্রদায়িক' আয়োজন, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ১০০ কোটি মানুষ অংশ নেয়।
বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট: ঝুঁকি ও সম্ভাবনা
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ অন্যতম। এ বছর বাংলাদেশে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান 'গ্রিন ডে ট্রেনিং' ও 'আর্থ অলিম্পিয়াড' এর মতো কর্মসূচির আয়োজন করেছে। নদী দূষণ রোধ, উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ বন রক্ষা এবং শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তরুণদের অংশগ্রহণ এবার চোখে পড়ার মতো।
প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল সেগান বলেছিলেন, "পৃথিবী হলো এক বিশাল মহাবিশ্বের বুকে অতি ক্ষুদ্র এক মঞ্চ। আমাদের একমাত্র কাজ হলো এই পৃথিবীকে রক্ষা করা এবং একে ভালোবাসতে শেখা।"
ধরিত্রী দিবস কেবল একদিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি প্রতিদিনের অঙ্গীকার। আমাদের ছোট ছোট সঠিক পদক্ষেপই পারে এই সুন্দর পৃথিবীকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য রেখে যেতে।



