Thursday, June 18, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইন্টার্নশিপের খোঁজে? সিভি পাঠানোর আগে এই ভুলগুলো করছেন না তো?

কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের আগে কিছু কৌশলগত পরিবর্তন আপনার পথকে অনেক বেশি মসৃণ করতে পারে

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ প্রান্তে এসে প্রতিটি শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো ‘ইন্টার্নশিপ’। তাত্ত্বিক পড়াশোনার গণ্ডি পেরিয়ে পেশাদার দুনিয়ায় পা রাখার এটিই প্রথম সিঁড়ি। তবে কেবল অন্ধের মতো ডজন ডজন সিভি জমা দিলেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগ মেলে না; বরং সঠিক কৌশল, প্রস্তুতি এবং সঠিক ক্ষেত্র বাছাইয়ের মাধ্যমেই ইন্টার্নশিপকে ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্টে রূপান্তর করা সম্ভব। 

ক্যাম্পাস জীবনের শেষ সেমিস্টারগুলোতে শিক্ষার্থীদের একটাই ব্যস্ততা - লিংকডইনে স্ক্রোল করা, সিনিয়রদের নক দেওয়া আর সিভি রি-ডিজাইন করা। ইন্টার্নশিপ মূলত একজন শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ারের লাইভ ডেমো। তবে এই প্রথম কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের আগে কিছু কৌশলগত পরিবর্তন আপনার পথকে অনেক বেশি মসৃণ করতে পারে।

আবেদন প্রক্রিয়াসহ ইন্টার্নশিপের সময় যেসব বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত, তা নিচে তুলে ধরা হলো:

ব্লাইন্ড অ্যাপ্লিকেশন নয়, ফোকাসড হোন

ইন্টার্নশিপ খোঁজার সময় শিক্ষার্থীরা প্রায়ই সব জায়গায় ঢালাওভাবে আবেদন করতে থাকেন। এটি একটি ভুল পদ্ধতি। একই বিভাগ থেকে পড়েও একেকজনের ক্যারিয়ারের লক্ষ্য একেক রকম হতে পারে। যেমন - সাংবাদিকতা বা গণমাধ্যমের একজন শিক্ষার্থী কেবল নিউজরুম নয়; জনসংযোগ (পিআর), কন্টেন্ট ক্রিয়েশন, করপোরেট কমিউনিকেশন কিংবা ব্র্যান্ডিংয়েও ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। তাই আপনার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য যেদিকে, ইন্টার্নশিপের জন্য সেই খাতটিকেই আগে বেছে নিন।

সিভিতে স্কিল ও পোর্টফোলিওকে প্রাধান্য দিন

অনেকে মনে করেন কম সিজিপিএ (CGPA) থাকলে ভালো প্রতিষ্ঠানে ডাক পাওয়া যাবে না। বর্তমান কর্পোরেট বা মিডিয়া হাউসগুলো সার্টিফিকেটের চেয়ে প্র্যাক্টিক্যাল স্কিল বেশি দেখে। বিশ্ববিদ্যালয়ে করা কোনো প্রজেক্ট, ক্লাবের লিডারশিপ রোল, স্বেচ্ছাসেবী কাজ, লেখালেখি কিংবা কোনো বিশেষ সফটওয়্যারের দক্ষতা (যেমন: ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং বা ডাটা অ্যানালাইসিস)-এগুলো সিভিতে হাইলাইট করুন। সম্ভব হলে কাজের একটি পোর্টফোলিও লিংক যোগ করে দিন।

প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন বুঝুন  

কোনো প্রতিষ্ঠানে কাভার লেটার পাঠানোর আগে তাদের কাজ সম্পর্কে হোমওয়ার্ক করা জরুরি। একটি স্টার্ট-আপ কোম্পানি, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কিংবা সংবাদমাধ্যমের কাজের পরিবেশ ও ইন্টার্নের দায়িত্ব সম্পূর্ণ আলাদা হয়। তাদের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেইজগুলো নিয়মিত ফলো করলে তাদের সাম্প্রতিক প্রজেক্ট সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, যা ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখবে।

কেবল স্টাইপেন্ড বা বেতন দিয়ে মূল্যায়ন করবেন না

প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা হিসেবে পারিশ্রমিক বা স্টাইপেন্ডের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুরুতেই কেবল টাকার অঙ্ক না দেখে, সেখানে শেখার সুযোগ কতটা এবং কার অধীনে (মেন্টর)কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন - সেটিকে অগ্রাধিকার দিন। কয়েক মাসের একটি ভালো মেন্টরশিপ আপনার ক্যারিয়ারকে কয়েক বছর এগিয়ে দিতে পারে।

এআই ও আধুনিক প্রযুক্তির সাথে মানিয়ে নেওয়া

বর্তমান কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। আপনি যে খাতেরই হোন না কেন, বেসিক এআই টুলস (যেমন: ChatGPT, Midjourney বা ডাটা অ্যানালিটিক্স টুলস) কীভাবে নিজের কাজে ব্যবহার করতে হয়, তার প্রাথমিক ধারণা থাকা ভালো। প্রযুক্তি ব্যবহারে আপনার দক্ষতা নিয়োগকর্তাদের দ্রুত আকৃষ্ট করবে।

নেটওয়ার্কিং

একটি প্রতিষ্ঠানে আবেদনের আগে সেখানকার বর্তমান বা প্রাক্তন ইন্টার্নদের সাথে যোগাযোগ করুন। বিজ্ঞাপনে ভেতরের অনেক তথ্য (যেমন: কাজের চাপ, অফিসের পরিবেশ) থাকে না, যা সিনিয়রদের কাছ থেকে জানা সম্ভব। এছাড়া ইন্টার্নশিপ চলাকালীন কেবল নিজের ডেস্কে মগ্ন না থেকে অন্য বিভাগের সহকর্মীদের সাথেও পেশাদার সম্পর্ক বা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন। এই যোগাযোগগুলোই পরবর্তীতে চাকরির বড় সুযোগ এনে দেয়।

ইন্টারভিউতে লিসেনিং স্কিল ও ইতিবাচক মনোভাব  

ইন্টার্নশিপের ইন্টারভিউতে কেউ আপনার পিএইচডি লেভেলের জ্ঞান পরীক্ষা করবে না। নিয়োগকর্তারা মূলত দেখেন - আপনার শেখার আগ্রহ কতটা, আপনি দলগতভাবে কাজ করতে পারেন কি না এবং নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে কতটা প্রস্তুত। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে বানানোর চেষ্টা না করে, বিনয়ের সাথে তা স্বীকার করাটাই ইতিবাচক ইম্প্রেশন তৈরি করে।

প্রত্যাখ্যান মানেই ব্যর্থতা নয়

একটি পদের বিপরীতে শত শত আবেদন জমা পড়ে। তাই কোথাও সুযোগ না পেলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। প্রতিটি রিজেকশন বা প্রত্যাখ্যান আসলে আপনার সিভিতে বা ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতিতে কোথায় কমতি ছিল, তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ করে দেয়।

প্রথম ইন্টার্নশিপ কখনোই শতভাগ নিখুঁত হবে না। কর্মজীবনের প্রথম দিকে ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে এই কয়েক মাসের অভিজ্ঞতাই আপনাকে বুঝিয়ে দেবে কোন কাজটি আপনার ভালো লাগে আর কোনটি আপনার জন্য নয়। অনেক প্রতিষ্ঠান ইন্টার্নদের কাজের মূল্যায়ন করে পরবর্তীতে সরাসরি ফুল-টাইম জবের অফারও দেয়। তাই ইন্টার্নশিপকে কেবল একটি সার্টিফিকেট পাওয়ার মাধ্যম না ভেবে, পেশাদার দুনিয়ায় নিজেকে দক্ষ করে তোলার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা উচিত।  

   

About

Popular Links

x